২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট, জাতীয় ঐক্য এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। সেখানে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোটের অধিকার ও জাতীয় ঐক্য
মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণ পুনরায় তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। ইতিহাসের এই মহাসন্ধিক্ষণে আমাদের সচেতন ও সংযমী হতে হবে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলনে জাতিগতভাবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারপাশে গুজব, উসকানি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আবহ তৈরি হতে পারে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক নষ্ট না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজে পারস্পরিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে তা যেন প্রতিহিংসা কিংবা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ না নেয়। আমরা যৌক্তিক সমালোচনা করব, কিন্তু কাউকে অসম্মান করব না। ক্ষুদ্র স্বার্থে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে শত্রুতায় পরিণত করা যাবে না।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: তারুণ্যের প্রথম ভোট, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে হোক: আজহারী
রাজনীতিবিদদের প্রতি পরামর্শ
রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে আজহারী বলেন, সাধারণ মানুষ এখন ট্যাগিং ও ব্যাশিং মুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। তিনি ‘চেতনা বিক্রি’ ও ‘দোষারোপের রাজনীতি’র চির অবসান কামনা করে বলেন, ‘জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে কারো কল্যাণ নেই। আপনারা প্রতিটি আসনে গণমানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানের প্রতিযোগিতা করুন। প্রতিপক্ষকে ব্লেইম না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরুন।’
প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দেন এই আলোচক। তিনি বলেন, ‘আঠারো কোটি মানুষ আপনাদের কাছ থেকে একটি কাঙ্ক্ষিত ইলেকশন উপহার পেতে চায়। দায়িত্ব পালনে আপনাদের পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীন আচরণ জাতি প্রত্যাশা করে।’
আরও পড়ুন: ভোট না দেওয়া: ইসলামের দৃষ্টিতে দায় ও দায়িত্ব
ভোটারদের প্রতি বার্তা
ভোটকে একটি ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে বিবেক ও ন্যায়বোধের সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দিন। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন এই জাতির কাণ্ডারী হিসেবে এমন নেতৃত্বকে বাছাই করেন, যার হাতে দেশ ও গণমানুষের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে।’
পরিশেষে ঐক্যের ডাক
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্ব পাবেন, তাদের সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সাফল্য আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




