বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শবে মেরাজের রোজা রাখতে ইচ্ছুকদের জন্য জরুরি বার্তা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

শবে মেরাজের রোজা রাখতে ইচ্ছুকদের জন্য জরুরি বার্তা

প্রতি বছর রজব মাস এলেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে ইবাদতের আমেজ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ২৬ রজব দিবাগত রাত বা ২৭ রজবকে কেন্দ্র করে অনেকেই বিশেষ রোজা রাখার প্রস্তুতি নেন। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা থেকেই অনেকে এই আমল করতে চান। কিন্তু যারা এই দিনে বিশেষ সওয়াবের আশায় রোজা রাখতে চান, তাদের জন্য ইসলামি শরিয়তের দালিলিক ব্যাখ্যা জানা জরুরি।

মূল বিষয় 

ইসলামের ইতিহাস ও হাদিস শাস্ত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, শবে মেরাজ বা ২৭ রজব উপলক্ষে বিশেষ কোনো রোজা রাখার বিধান বা ফজিলত বিশুদ্ধ কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় না।
রাসুলুল্লাহ (স.) মেরাজের ঘটনার পর মক্কায় ও মদিনায় দীর্ঘ প্রায় ১১-১২ বছর জীবিত ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনও ২৭ রজবকে ‘মেরাজ দিবস’ হিসেবে পালন করেননি বা এই দিনে রোজা রাখেননি। সহিহ বুখারি বা মুসলিমের মতো বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থে এই রোজার সপক্ষে কোনো নির্দেশনা নেই। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর মতো মুহাদ্দিসগণ নিশ্চিত করেছেন যে, রজব মাসের নির্দিষ্ট দিনের রোজার ফজিলত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো ‘সহিহ’ নয়।

আরও পড়ুন: শবে মেরাজ উপলক্ষে যেসব বিদআত ছড়িয়ে পড়েছে সমাজে

তারিখ নিয়ে ধোঁয়াশা

আমরা যে ২৭ রজবকে মেরাজের দিন মনে করে রোজা রাখি, ঐতিহাসিকভাবে এই তারিখটিই নিশ্চিত নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মেরাজ রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি বা রমজান মাসেও হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু তারিখই সুনির্দিষ্ট নয়, তাই অনিশ্চিত একটি তারিখকে কেন্দ্র করে বিশেষ ইবাদত নির্ধারণ করা শরিয়তসম্মত নয়।


বিজ্ঞাপন


সাহাবিদের আমল

নবীজির ওফাতের পর সাহাবায়ে কেরামও এই দিনে বিশেষ কোনো উৎসব বা রোজা পালন করেননি। বরং কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, রজব মাসকে রোজার জন্য বিশেষায়িত করাকে হজরত ওমর (রা.) নিরুৎসাহিত করতেন, যাতে মানুষ একে রমজানের মতো আবশ্যিক মনে না করে।

আরও পড়ুন: মেরাজের রাতে নবীজি যাদের জাহান্নামে দেখেছেন 

ভুল ধারণা ও সতর্কতা

সমাজে প্রচলিত আছে যে, এই দিনে রোজা রাখলে ৬০ বছরের রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মুহাদ্দিসগণের মতে, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা। সওয়াবের আশায় ভিত্তিহীন কোনো আমল করা ‘বিদআত’-এর অন্তর্ভুক্ত, যা বর্জন করা জরুরি।

করণীয়

মেরাজের মূল শিক্ষা হলো নামাজ কায়েম করা এবং সুন্নাহ মেনে চলা। কেউ যদি রজব মাসে সাধারণ নফল রোজা হিসেবে (যেমন আইয়ামে বিজ বা সোম-বৃহস্পতিারের রোজা) আমল করেন, তবে তা জায়েজ। কিন্তু ‘মেরাজের রোজা’ নাম দিয়ে বিশেষ ফজিলতের বিশ্বাস নিয়ে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। বিশুদ্ধ সুন্নাহর অনুসরণেই রয়েছে প্রকৃত কামিয়াবি।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর