বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যে আমল নবীজি অসুস্থ থাকলেও ছাড়তেন না

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

যে আমল নবীজি অসুস্থ থাকলেও ছাড়তেন না

রাতের ইবাদত আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তাই নেককার বান্দারা রাতের আঁধারে রবের ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। বিশেষ করে ‘তাহাজ্জুদ নামাজ’ ছিল নবীজি (স.)-এর নিয়মিত আমল, যা তিনি কখনো ছাড়তে চাইতেন না। কারণ তাহাজ্জুদ গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং বান্দাকে আল্লাহর খুব কাছে নিয়ে যায়।

অসুস্থতায়ও ছাড়তেন না

নবীজি (স.) তাহাজ্জুদ নামাজ স্বেচ্ছায় তো ছাড়তেনই না, কখনো অসুস্থতা বা দুর্বলতা অনুভব করলেও তা আদায় করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে কাইস (রা.)-কে উপদেশ দিতে গিয়ে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন- ‘হে আবদুল্লাহ! কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) কখনো ছেড়ো না! কেননা নবীজি (স.) তা কখনো ছাড়েননি। কখনো অসুস্থতা বা দুর্বলতা বোধ করলে তিনি বসে আদায় করতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৯)

পা ফুলে যেত ইবাদতে

প্রিয়নবী (স.) তাহাজ্জুদ নামাজে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। এতে তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তবু আপনি কেন তা করছেন? তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করব না?’ (সহিহ বুখারি: ৪৮৩৭)

ছুটে গেলে কাজা করে নিতেন

ঘুম বা তীব্র অসুস্থতার কারণে কখনো তাহাজ্জুদ ছুটে গেলে তিনি তা কাজা করে নিতেন। আয়েশা (রা.) জানান, ‘কোনো কারণে রাসুল (স.) রাতে ইবাদত করতে না পারলে দিনের বেলায় (চাশতের ওয়াক্তে) বারো রাকাত আদায় করে নিতেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৭৪৬)

শুধু নিয়তেও মেলে অসীম প্রতিদান

ফরজ নামাজের পরেই তাহাজ্জুদের স্থান। রাসুল (স.) সুসংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমানোর পর অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়েই রাত পার করে দেয়, আল্লাহ তার নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব দান করেন এবং এই ঘুমকে তার জন্য সদকাস্বরূপ গণ্য করেন। (সুনানে নাসায়ি: ১৭৮৭)

আল্লাহ তাআলা আমাদের অলসতা দূর করে দিন এবং যত বেশি সম্ভব তাহাজ্জুদ পড়ার ও অন্তত ঘুমানোর আগে নিয়ত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর