সিজিএসের এক অনুষ্ঠানে নিকাব নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে নারীর প্রতি অবমাননাকর ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ। সংগঠনটি অবিলম্বে ওই বক্তব্যের জন্য মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার সিরডাপ অডিটোরিয়ামে সিজিএস আয়োজিত মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বিএনপি নেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী পরিচয়ধারী মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম নারীদের ব্যবহৃত পোশাক নিকাব নিয়ে যে কটুবাক্য উচ্চারণ করেছেন, তা স্পষ্টতই নারীর প্রতি অবমাননাকর। একই সঙ্গে এটি মুসলিম নারীদের চর্চিত পোশাক ও ইসলামের পর্দা বিধানের প্রতি কটূক্তির শামিল।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশের কোটি মানুষের বোধ-বিশ্বাসে আঘাত করা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। কোনো সুস্থ ও দায়িত্ববান ব্যক্তি কোটি কোটি নারীর চর্চিত পোশাক নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য করতে পারেন না। জনাব ঠাকুরের বক্তব্যে বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করে, দেশের মানুষের বিশ্বাস এবং নারীদের পোশাক নিয়ে করা কটূক্তির জন্য মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিজিএস দেশের একটি স্বনামধন্য থিংকট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান। তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার না করা দুঃখজনক। সংগঠনটি সিজিএসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করা হোক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে তার দায় সিজিএসের ওপর বর্তাক—এমনটি তারা চায় না।
এদিকে, একই অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ অংশ নিলেও সাংগঠনিক বৈঠক থাকায় তিনি শুরুতেই বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বলে জানানো হয়েছে। ঠাকুরের বক্তব্যের সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এমআর

