বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নিরাপদ ভ্রমণের রহস্য: নবীজির শেখানো ৮ আমল

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

নিরাপদ ভ্রমণের রহস্য: নবীজির শেখানো ৮ আমল

ইসলামে ভ্রমণ কেবল ভৌগলিক স্থানান্তর নয়; বরং এটি জ্ঞানার্জন, আল্লাহর সৃষ্টি নিদর্শন পর্যবেক্ষণ, আত্মশুদ্ধি এবং ঈমানি দৃঢ়তা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ভ্রমণ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের নিয়তে করা হয়, তখন পুরো যাত্রাই ইবাদতে পরিণত হয়। তবে এই ইবাদত তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি, সতর্কতা ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়।

১. ইস্তেখারা: ভ্রমণ শুরুর প্রথম ধাপ

ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তেখারা করা সুন্নত। সাহাবি জাবির (রা.) বলেন- ‘রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের সব বিষয়ে ইস্তেখারা করতে শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি কোরআনের সুরাগুলো শিক্ষা দিতেন।’ (ইবনে হিব্বান: ৮৮৭)

পদ্ধতি: দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইস্তেখারার দোয়া পাঠ করে আল্লাহর সাহায্য ও সঠিক সিদ্ধান্ত কামনা করা।

২. সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি

অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ: ভ্রমণের পথ, যানবাহন ও পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ‘যদি তোমরা না জানো, তবে যারা জানে তাদের জিজ্ঞেস করো।’ (সুরা নাহল: ৪৩)


বিজ্ঞাপন


ভোরবেলায় যাত্রা শুরু: সকালে যাত্রা শুরু করা বরকতের কারণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলাকে বরকতময় করে দিন।’ (আবু দাউদ: ২৬০৬)

আরও পড়ুন: সফরে নামাজ: কসর না করে পুরো পড়লে সহিহ হবে কি?

৩. নামাজ ও আল্লাহর ওপর ভরসা

বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘সফরকারী তার পরিবারের জন্য দুই রাকাত নামাজের চেয়ে উত্তম কিছু রেখে যায় না।’ (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা: ৪৯১২)

৪. সঙ্গী নির্বাচন ও দলনেতা

একাকী ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘যদি লোকেরা একা সফরে কী ক্ষতি আছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোনো আরোহী রাতে একাকী সফর করত না।’ (সহিহ বুখারি: ২৯৯৮)

তিনজন বা ততোধিক হলে একজনকে আমির নিযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। (আবু দাউদ: ২৬০৯)

আরও পড়ুন: ভ্রমণের সময় পরিবারের জন্য যে দোয়া করবেন

৫. সুন্দর বিদায় ও দোয়া

বিদায় দানকারী বলবেন, আল্লাহ তোমাকে তাকওয়া-পরহেজগারি দান করুন, তোমার গুনাহ ক্ষমা করুন আর যেখানেই থাকো তোমাকে তিনি কল্যাণ দিন। (তিরমিজি: ৩৪৪৪) আর সফরকারী বলবেন, আল্লাহর নিরাপত্তায় তোমাকে অর্পণ করছি, তিনি অনন্য আস্থাভাজন। (আহমদ: ৯২১৯)

৬. ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও জিকির

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওউতা ইল্লা বিল্লাহ। (আবু দাউদ: ৫০৯৫)

যানবাহনে আরোহণের দোয়া: সুবহানাল্লাজি সাখ্খারালানা হা-যা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন। ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন। (সহিহ মুসলিম: ১৩৪২)

নৌযান বা জাহাজে আরোহণের দোয়া: বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসাহা; ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রহিম। (সুরা হুদ: ৪১)

আরও পড়ুন: নিজের বাড়িতে বেড়াতে গেলে নামাজ কসর করতে হবে?

৭. ঝুঁকি এড়ানো ও সতর্কতা

ইসলাম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিজেকে নিক্ষেপ করতে নিষেধ করে। কিছু আসার ও ফিকহি ব্যাখ্যায় এসেছে- অপ্রয়োজনীয় বিপজ্জনক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা ঈমানের দাবি। বিশেষত প্রয়োজন ছাড়া উত্তাল সমুদ্রে যাত্রা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ; আবু দাউদ)

৮. প্রত্যাবর্তন ও কৃতজ্ঞতা

ফিরে এসে প্রথমে মসজিদে দুই রাকাত নামাজ (সহিহ বুখারি: ২৬)

কৃতজ্ঞতার দোয়া: আয়িবুনা তা-ইবুনা আবিদুনা লি-রাব্বিনা হামিদুন। (সহিহ মুসলিম: ১৩৪২)

ইসলামি নির্দেশনা মেনে ভ্রমণ করলে তা কেবল নিরাপদই নয়, বরং ইবাদত ও বরকতের মাধ্যম হয়ে ওঠে। ইস্তেখারা, দোয়া, সতর্কতা, সঠিক সঙ্গী নির্বাচন এবং ফিরে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এই সবকিছু মিলেই একজন মুমিনের সফরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে পরিণত করে। আজকের ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাব্যবস্থায় নববি এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ সফর হবে নিরাপদ, হৃদয় হবে প্রশান্ত এবং আমল হবে সওয়াবপূর্ণ।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর