রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

জবাইয়ের আগে কোরবানিদাতার নাম উচ্চারণের নিয়ম

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২২, ০৩:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

জবাইয়ের আগে কোরবানিদাতার নাম উচ্চারণের নিয়ম

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্য থাকার পরও যে কোরবানি করে না, হাদিসে তার নিন্দা করা হয়েছে। ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা কোরবানি দিলে একা দিতে হবে (মুসলিম: ১৩১৮; কাজিখান: ৩/৩৪৯)। গরু-মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে একটি প্রাণীতে সর্বাধিক সাতজন অংশীদার হতে পারেন, চাই একই পরিবারের সদস্য হোক বা একাধিক পরিবারের। (নুখাবুল আফকার: ১২/৫৩২, মিরকাত: ৩/১০৮০)

কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় কোরবানি দাতার নাম বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে কোরবানিটি যার পক্ষ থেকে করা হচ্ছে তার নাম পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া। কিছু হাদিসে (দোয়া পড়ে) কোরবানি করার আগে কার পক্ষ থেকে কোরবানি করা হচ্ছে তার নাম বলে তারপর আল্লাহুম্মা আকবর বলে জবাই করার সমর্থন পাওয়া যায়। যদিও তা বাধ্যতামূলক হিসেবে নয়। যেমন হাদিসে এসেছে, রাসুল (স.) যখন কোরবানির দিন দুটি শিংওয়ালা মোটাতাজা বকরি জবাই করতেন।


বিজ্ঞাপন


কোরবানির পশু শোয়ানোর পর তিনি পড়তেন ‘ইন্নি ওয়াজ জাহতু ওয়াজ হিয়া লিল্লাযি ফাতারাছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ ইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বিজালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন।...বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর। (আবু দাউদ: ২৭৮৬; ইবনে মাজাহ: ৩১২১) 

দোয়ার অর্থ: নিশ্চয়ই আমি দৃঢ়ভাবে সেই মহান সত্তার অভিমুখী হলাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্গত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সবই বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমি আত্মসমর্পণকারীদের একজন। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।’ 

ভাগে কোরবানির পশুতেও জবাইয়ের সময় সবার নাম বলা যায়। যেহেতু যিনি জবাই করছেন তিনি সাতজন ব্যক্তির প্রতিনিধি হয়ে জবাই করছেন। তাই কোরবানি করার সময় তাদের পক্ষ থেকে তিনি কোরবানি করছেন, এ কথাটি পরিষ্কার করার জন্য নামগুলো বলা যায়। এতে দোষের কিছু নেই। 

তবে মুখে সব শরিকের নাম বলা জরুরি বিষয় নয়; বরং জবাইকারী শুধু পশুটির মালিকদের নামে কোরবানি করছেন- এতটুকু মনের মাঝে রেখে জবাই করলেও কোরবানি বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। তাই নাম বলা নিয়ে জবাইকারীকে পেরেশানি করার প্রয়োজন নেই। (ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ: ১৫/৫১৭; বাদায়েউস সানায়ে: ৫/৭১)

স্মরণ রাখতে হবে, কাদের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি করা হচ্ছে, সেটি পশু ক্রয়ের সময়ই নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাই কোরবানিদাতার নাম যে উচ্চারণ করতেই হবে তা নয়। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নবীজি কোরবানির পশু জবাই করার সময় মুখে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবর বলেছেন।

সুতরাং, বোঝা গেলো—কোরবানির আগে নিশ্চিত হওয়ার জন্য নামগুলো পাঠ করা যেতে পারে, আবার না করলেও অসুবিধা নেই। এভাবে উল্লেখ করলেও হবে যে, আমরা অমুক বলছি, আমাদের কোরবানি কবুল করুন, অথবা সবার তরফ থেকে কোরবানি কবুল করুন। (তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৫৫৫৮,সহিহ মুসলিম: ১৯৬৬)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্নাহ সমর্থিত নিয়মে কোরবানির পশু জবাই করার তাওফিক দান করুন। সবার কোরবানিকে তিনি কবুল করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর