বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নারীদের প্রতি নবীজির সম্মান: আজও প্রেরণার আলো

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

নারীদের প্রতি নবীজির সম্মান: আজও প্রেরণার আলো

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন সর্বযুগের জন্য অনুকরণীয়। নারীদের প্রতি তাঁর আচরণে ফুটে উঠেছে অসাধারণ সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধাবোধ। পরিবারের নারীদের পাশাপাশি সমাজের সকল নারীর প্রতিই তাঁর ছিল অগাধ ভালোবাসা।

নারী-শিশুদের প্রতি বিশেষ স্নেহ

হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একদল নারী ও শিশুকে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে আসতে দেখে রাসুল (স.) বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয়।’ এ কথা তিনি তিনবার বলেন। (ইবনে মাজাহ: ১৮৯৯)

খাদিজা (রা.)-এর স্মৃতিতে আবেগ

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, খাদিজার বোন হালা বিনতু খুওয়াইলিদ একদিন নবীজি (স.)-এর কাছে সাক্ষাতের অনুমতি চান। প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজার স্মৃতি মনে করে তিনি হকচকিত হয়ে বললেন, ‘আল্লাহ, এ তো দেখছি হালা বিনতু খুওয়াইলিদ!’

আরও পড়ুন: কোরআনের বর্ণনায় নারীর ১০ বৈশিষ্ট্য


বিজ্ঞাপন


নারীশিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা

নবীজি (স.) নারীশিক্ষাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন। তিনি মদিনার আনসারি নারীদের প্রশংসায় বলতেন, ‘আনসার নারীরা কতই না উত্তম! দ্বিনের জ্ঞানার্জনে লজ্জা কখনো তাঁদের বিরত রাখতে পারে না।’ (আবু দাউদ: ৩১৬)

নারীদের জন্য পৃথক শিক্ষাদান

হজরত আবু সায়িদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা নারীরা নবীজি (স.)-কে অনুরোধ করেন, ‘পুরুষরা সবসময় আপনার কাছে প্রাধান্য পায়, আমাদের জন্য একটি আলাদা দিন নির্ধারণ করুন।’ তখন নবীজি (স.) তাঁদের জন্য পৃথক একটি দিনের প্রতিশ্রুতি দেন। সেদিন তিনি শুধু তাঁদের জন্য উপদেশ ও নির্দেশ প্রদান করেন। (বুখারি: ১০১)

যুদ্ধবন্দি নারীর প্রতি অসাধারণ মর্যাদা

খায়বার যুদ্ধে বিজয়ের পর সাফিয়া বিনতু হুওয়াইকে প্রথমে বন্দি করা হয়। কেউ কেউ নবীজি (স.)-কে পরামর্শ দেন তাঁকে দিহইয়া (রা.)-এর হাতে না দিয়ে নিজে গ্রহণ করতে। পরবর্তীতে রাসুল (স.) তাঁকে স্বাধীন করেন এবং বিয়ে করে উম্মুল মুমিনিনের মর্যাদা প্রদান করেন। (বুখারি: ৯৪৭; মুসলিম: ১৩৬৫)

আরও পড়ুন: ইসলামে নারীকে উপেক্ষার সুযোগ নেই

বৃদ্ধার প্রতি সদয় আচরণ

হজরত হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, এক বৃদ্ধা নবীজি (স.)-কে অনুরোধ করেন, আল্লাহর কাছে তাঁর জান্নাতে প্রবেশের দোয়া করতে। নবীজি (স.) বলেন, ‘মা, কোনো বুড়ো মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ এতে তিনি কেঁদে ফেলেন। পরে নবীজি (স.) ব্যাখ্যা দেন, ‘তাঁকে বলে দাও, তুমি বুড়ো অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ কারণ আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী।’ (সুরা ওয়াকিয়া: ৩৬; শামায়েলে তিরমিজি: ১৭)

উম্মু হারামের স্বপ্নপূরণ

উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রা.)-এর ঘরে নবীজি (স.) একদিন হাসতে হাসতে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের একদল মুজাহিদকে দেখলাম, তারা সিংহাসনে বসা রাজা-বাদশাহর মতো সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে।’ উম্মু হারাম দোয়া চান যেন তিনিও সেই দলে থাকেন। নবীজি (স.) তাঁর জন্য দোয়া করেন। পরে মুয়াবিয়া (রা.)-এর যুগে এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়। সমুদ্র অভিযানে অংশ নিয়ে উম্মু হারাম শাহাদাতবরণ করেন। (বুখারি: ৬২৮৩)

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবনীতে নারীদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার অসংখ্য দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। তিনি নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ধৈর্যের সঙ্গে এবং সর্বোপরি নারীজাতিকে সমাজের অপরিহার্য অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তাঁর এই আদর্শ আজও নারী অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর