কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতিবছর ঈদুল আজহার সময় মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। এই ইবাদতের জন্য পশু কেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু অনেকে প্রশ্ন করেন- অমুসলিম বিক্রেতার কাছ থেকে কোরবানির পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? এই প্রতিবেদন সেই প্রশ্নের ফিকহভিত্তিক উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হলো।
পশু ক্রয়ের মূলনীতি
হালাল জিনিস ক্রয়-বিক্রয়ে বিক্রেতার ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত মূলনীতি রয়েছে যে- الأصل في المعاملات الإباحة حتى يدل الدليل على التحريم অর্থাৎ লেনদেনের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা বৈধ, যতক্ষণ না কোনো নিষিদ্ধতার প্রমাণ পাওয়া যায়। (ইবনু কুদামা, আল-মুগনি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৮৪)
এই মূলনীতির ভিত্তিতে, অমুসলিমের কাছ থেকে পশু কেনা বৈধ, যদি পশুটি হালাল হয় এবং কোরবানির জন্য উপযুক্ত হয়।
আরও পড়ুন: কোরবানির গোশত অমুসলিমকে দেওয়া যাবে?
পবিত্র কোরআনে যা বলা হয়েছে
পবিত্র কোরআনে পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম বা অমুসলিম বিক্রেতা শর্ত করা হয়নি। বরং শর্ত হলো- পশু হালাল হওয়া। হালাল প্রাণী অমুসলিমদের থেকে ক্রয় করাতে কোনো দোষ নেই। আর কোরবানি হিসাবে কবুল হতেও কোনো বাধা নেই। মূলত আল্লাহ যে সকল প্রাণী হালাল করেছেন তা খাওয়া হালাল সেটি যেখানেই লালিত-পালিত হোক না কেন। (দ্র. সুরা মায়েদা: ৫)
নবীজি ও সাহাবিদের আমল
হাদিসে অমুসলিমের কাছ থেকে পশু কেনা নিষিদ্ধ বলা হয়নি। বরং নবী কারিম (স.) ও সাহাবিরা বিভিন্ন সময়ে অমুসলিমদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন।
ইবনু কুদামা (রহ.) বলেন- ‘যদি পশুটি অমুসলিমের মালিকানাধীন হয় এবং তাতে কোরবানির শর্তসমূহ পূরণ থাকে, তবে তা ক্রয় করা জায়েজ। (আল-মুগনি, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৩৪)
ইমাম নববি (রহ.) বলেন- অমুসলিমের কাছ থেকে যেকোনো কিছু ক্রয় করা বৈধ, যতক্ষণ না সেটা গুনাহের কাজে সহায়তা করে। (আল-মাজমু’, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৮৭)
আরও পড়ুন: কোরবানির চামড়ার টাকা নিজে খরচ করতে পারবে?
যেসব ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি
পশুটি চুরি করা বা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থে কেনা হলে তা কোরবানির জন্য কিনবেন না।
পশুটি কোরবানির জন্য অযোগ্য (যেমন অন্ধ, পঙ্গু, খুব দুর্বল) হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
যদি অমুসলিম বিক্রেতা প্রতারণা করে বা পশুর দোষ গোপন করে, বিষয়টি জানতে পারলেই তা পরিত্যাগ করুন।
শেষ কথা, ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে, অমুসলিমের কাছ থেকে কোরবানির পশু কেনা বৈধ। রাসুলুল্লাহ (স.) ও সাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন সময়ে অমুসলিমদের থেকে বৈধ পণ্য ক্রয় করেছেন। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন পশুটি শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানির উপযুক্ত হয় এবং দোষত্রুটিমুক্ত হয়।




