শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

শাসকের যে ২ অন্যায় সমর্থন করলে উম্মতের তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০১:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

শাসকের যে ২ অন্যায় সমর্থন করলে উম্মতের তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে

পৃথিবীকে সুষ্ঠু-সুচারুরূপে পরিচালিত করতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শাসক ও প্রজা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। শাসকদের দায়িত্ব প্রজা-সাধারণের অধিকারগুলোর প্রতি খেয়াল রাখবে; সেগুলো আদায়ে সচেষ্ট হবে। ন্যায়বিচার করবে, ইনসাফ করবে। শাসকরা সমাজের রক্ষক। তারা ভক্ষক হতে পারবে না। মিথ্যুক হতে পারবে না। জনগণকে অধিকার বঞ্চিত ও জুলুম-অত্যাচার করতে পারবে না। ইসলামে এসব কঠিন পাপ হিসেবে স্বীকৃত।

কেয়ামতের দিন শাসকদের কঠিন হিসাব হবে। কেউ ন্যায়পরায়ণতার কারণে মুক্তি পাবেন, আর কেউ মিথ্যা ও জুলুমের কারণে ধ্বংস হবে। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে ১০ জন ব্যক্তির শাসক নির্বাচন করা হয়েছে, কেয়ামতের দিন তিনি দুই হাত গলার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় উত্থিত হবেন। অতঃপর তাঁর ন্যায়পরায়ণতা তাঁকে মুক্তি দেবে অথবা তাঁর জুলুম তাঁকে ধ্বংস করবে।’ (আন-নাসিহাতু লির-রায়ি: ২৮)


বিজ্ঞাপন


ভবিষ্যতে এমন কিছু শাসকের আবির্ভাব হবে, যারা মিথ্যুক ও অত্যাচারী হবে। তাদের সঙ্গী হতে উম্মতকে নিষেধ করেছেন নবীজি (স.)। কেউ তাদের সঙ্গী হলে উম্মতের তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে বলে সাবধান করেছেন।

আরও পড়ুন: জুলুমের পরিণতি সম্পর্কে কোরআনে যা বলা হয়েছে

কাব ইবনু উজরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বের হয়ে আমাদের সামনে আসলেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম নয়জন; পাঁচজন আরব এবং চারজন অনারব অথবা এর বিপরীত। তিনি বললেন, তোমরা শোনো, তোমরা কি শুনেছ? খুব শীঘ্রই আমার পরে এমন কিছু সংখ্যক শাসক আবির্ভূত হবে, যে ব্যক্তি তাদের সংস্পর্শে গিয়ে তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে এবং তাদেরকে অত্যাচারে সহায়তা দান করবে সে আমার দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তার দলে অন্তর্ভুক্ত নই। আর সে ব্যক্তি হাওজে কাওসারে আমার সামনে পৌঁছতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি তাদের সংস্পর্শে যাবে না, তাদের অত্যাচারে সহায়তা দান করবে না এবং তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে না, সে আমার এবং আমিও তার। সে হাওজে কাওসারে আমার সাক্ষাৎ লাভ করবে। (সুনানে তিরমিজি: ২২৫৯)

রাষ্ট্রক্ষমতা মহান আল্লাহর একটি বিশেষ অনুগ্রহ। এ অনুগ্রহ যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ক্ষমতা পেয়ে অহংকারী হওয়া কিংবা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার কিছু নেই। বরং তা আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করা কর্তব্য। ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসনকার্য পরিচালনা করলে তার জন্য পরকালে বিশেষ পুরস্কার রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কঠিন সময়ে তাদেরকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। (বুখারি: ১১৪২৩)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: শাসক, পদ-পদবি সম্পর্কে ইসলামি নির্দেশনা

অন্যদিকে, জালেম ও মিথ্যুক শাসকের পরিণতি খুব কঠিন হবে। এমনকি জালেম শাসককে সহযোগিতা করলেও ভয়ংকর পরিণতি ভোগ করতে হবে। হাদিস অনুযায়ী, এ ধরনের লোকও জালিমের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জালিমের শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে চলে অথচ সে জানে যে ওই ব্যক্তি জালিম, তখন সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল।’ (মেশকাত: ৪৯০৮)

রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সেই বান্দাই মর্যাদায় সবচেয়ে নিকৃষ্ট সাব্যস্ত হবে, যে অন্যের পার্থিব কল্যাণে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। অর্থাৎ কোনো জালিমের কাজে সাহায্য করেছে।’ (ইবনে মাজা: ৪১০১)

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর