বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অনর্থক হত্যা কেয়ামতের আলামত, নিহত ব্যক্তিও জাহান্নামি!

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২২, ০৫:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

অনর্থক হত্যা কেয়ামতের আলামত, নিহত ব্যক্তিও জাহান্নামি!

সমাজে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়া কেয়ামতের আলামত। কেয়ামত যত ঘনিয়ে আসবে, মানুষের মধ্যে তত বেশি অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়বে। মানুষ হিংস্র হয়ে উঠবে। মন থেকে মায়া-দয়া উঠে যাবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন কেয়ামত সন্নিকট হবে তখন আমল কমে যাবে, অন্তরে কৃপণতা ঢেলে দেওয়া হবে এবং হারজ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হারজ কী? তিনি বলেন, ব্যাপক হত্যাকাণ্ড।’ (বুখারি: ৬০৩৭)

যারা অন্যায়ভাবে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে, জাহান্নামই তাদের নিশ্চিত ঠিকানা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ইচ্ছাকৃত কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আল্লাহ তার ওপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য বিশাল আজাব প্রস্তুত করে রাখবেন।’ (সুরা নিসা: ৯৩)

ভয়াবহ এক সময়ে আমরা প্রবেশ করেছি বা করতে যাচ্ছি, যে যুগ সম্পর্কে মহানবী (স.) তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন। হাদিসের ভাষ্যমতে, অবস্থা এতটা ভয়াবহ হবে যে, মানুষ তার বন্ধুবান্ধব কিংবা আপন মানুষের কাছেও নিরাপদ থাকবে না। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি নবী (স.)-কে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি আবু বাকরাহ বর্ণিত হাদিসের অংশবিশেষ বর্ণনা করে বলেন, ওই ফেতনায় নিহত সব লোকই জাহান্নামি হবে। তিনি তাতে বলেন, আমি বললাম, হে ইবনে মাসউদ, ওই পরিস্থিতি কখন হবে?

তিনি বলেন, সেই মারামারির যুগে কোনো ব্যক্তি তার বন্ধুর কাছেও নিরাপদ থাকবে না। আমি বললাম, সেই যুগ যদি আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে আমাকে কী করতে আদেশ করেন? তিনি বলেন, তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, হাত গুটিয়ে রাখবে আর তুমি তোমার ঘরের বাইরে বের হবে না। অতঃপর যখন উসমান (রা.) শহীদ হলেন, তখন আমার ফেতনার কথা স্মরণ হলো। 

সুতরাং আমি দামেশকে চলে এলাম এবং খুরাইম ইবনে ফাতিক (রা.)-এর সাক্ষাতে এ হাদিস বর্ণনা করলাম। যেই সত্তা ছাড়া কোনো উপাস্য নেই তিনি সেই আল্লাহর কসম করে বলেন, আমি তাঁর কাছে ইবনে মাসউদের যে হাদিস বর্ণনা করেছি, অনুরূপ হাদিস তিনিও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে শুনেছেন।’ (আবু দাউদ: ৪২৫৮)

আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের বলেন, কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ‘হারজ’ হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, ‘হারজ’ কী? তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ব্যাপকতা। কতক মুসলমান বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা এখন এই এক বছরে এত মুশরিককে হত্যা করেছি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, তা মুশরিকদের হত্যা করা নয়; বরং তোমরা পরস্পরকে হত্যা করবে, এমনকি কোনো ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে, চাচাতো ভাইকে এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনকে পর্যন্ত হত্যা করবে। কতক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসুল, তখন কি আমাদের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাবে? রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, অধিকাংশ লোকের জ্ঞান লোপ পাবে এবং অবশিষ্ট থাকবে নির্বোধ ও মূর্খ।


বিজ্ঞাপন


অতঃপর আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি ধারণা করেছিলাম যে হয়তো এ যুগ তোমাদের ও আমাকে পেত, তাহলে তা থেকে আমার ও তোমাদের বের হয়ে আসা মুশকিল হয়ে যেত; যেমন নবী (স.) আমাদের জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, আমরা ওই অনাচারে যত সহজে জড়িয়ে পড়ব তা থেকে আমাদের নিষ্ক্রমণ ততোধিক দুষ্কর হবে।’ (ইবনে মাজাহ: ৩৯৫৯)

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন, দুনিয়া ধ্বংস হবে না যে পর্যন্ত না মানুষের কাছে এমন এক যুগ আসে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে কি দোষে সে অন্যকে হত্যা করেছে এবং নিহত লোকও জানবে না যে কি দোষে তাকে হত্যা করা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করা হলো, কিভাবে এমন অত্যাচার হবে? তিনি জবাবে বলেন, সে যুগটা হবে হত্যার যুগ। এরূপ যুগের হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামি হবে।’ (মুসলিম: ৭১৯৬)

নাউজুবিল্লাহ, তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত, যেকোনো ধরনের ফেতনা থেকে দূরে থাকা, জিহ্বার হেফাজত করা, ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি এড়িয়ে চলা। কোরআন-হাদিস মোতাবেক জীবন গড়ার চেষ্টা করা, মানুষকে বেশি বেশি দীনের দাওয়াত দেওয়া। মানুষ যত বেশি দীনবিমুখ হবে, সমাজে তত অস্থিরতা বাড়বে, তত বেশি মূর্খতা ভর করবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের ফেতনা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর