শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

রমজানের বিদায়লগ্নে আমল কবুলের দোয়া

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

রমজানের বিদায়লগ্নে আমল কবুলের দোয়া

বিদায়ের প্রহর ঘনিয়ে এসেছে রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাস পবিত্র রমজানের। মুমিনের হৃদয়ে একদিকে যেমন মাসজুড়ে সিয়াম সাধনার তৃপ্তি, অন্যদিকে প্রিয় মাসটিকে বিদায় দেওয়ার বেদনা। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ভাবনা—আমাদের নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও ইবাদতগুলো কি মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হলো?

রমজানের এই অন্তিম সময়ে আমাদের প্রধান করণীয় হলো, মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে আমল কবুলের প্রার্থনা করা। একইসঙ্গে ক্ষমা, তাকওয়া ও রহমত লাভের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির পূর্ণতা অর্জন করা। কারণ, রমজান হলো প্রাপ্তির ভান্ডার সমৃদ্ধ করার শ্রেষ্ঠ সময়।


বিজ্ঞাপন


রমজানের এই বিদায়মুহূর্তে আমল কবুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু দোয়া নিচে তুলে ধরা হলো-

রমজানের বিদায়মুহূর্তে আমল কবুলের দোয়া
রমজানে করা আমলগুলো কবুলের জন্য পবিত্র কোরআনের এই দোয়াটি করা যায়— رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ উচ্চারণ: ‘রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আংতাস সামিউল আলিম।’ অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে (আমল) গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা।’ (সুরা বাকারা: ১২৭)

আরও পড়ুন: যে দোয়া ১০ বার পড়লে গুনাহ করার ইচ্ছা জাগবে না

আরেকটি দোয়া হলো- اللهم سلِّمني إلى رمضان وسلِّم لي رمضان وتسلَّمه مني متقبلًا উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিমনি ইলা রামাদান, ওয়া সাল্লিম লী রামাদান, ওয়া তাসাল্লামহু মিন্নি মুতাকাব্বালান।’ অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে (আগামী) রমজান পর্যন্ত সুস্থ রাখুন। রমজানকে আমার জন্য নিরাপদ করুন। রমজানকে (রমজানের ইবাদতগুলো) আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন। হজরত ইয়াহইয়া ইবনে কাসির (রহ.) রমজানের শেষরাতে এই দোয়াটি করতেন।


বিজ্ঞাপন


আমল কবুল ও ক্ষমাপ্রার্থনার আরেকটি দোয়া হলো- رَبَّنَا وَاجۡعَلۡنَا مُسۡلِمَيۡنِ لَـكَ وَمِنۡ ذُرِّيَّتِنَآ اُمَّةً مُّسۡلِمَةً لَّكَ وَاَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبۡ عَلَيۡنَا ۚ اِنَّكَ اَنۡتَ التَّوَّابُ الرَّحِيۡمُ উচ্চারণ: ‘রব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়ামিন জুররিয়্যাতিনা উম্মাতান মুসলিমাতাল্লাকা ওয়াআরিনা মানাসিকানা ওয়াতুব আলাইনা ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুর রাহীম।’ অর্থ: ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরের মধ্য থেকে আপনার অনুগত জাতি বানান। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের বিধি-বিধান দেখিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা বাকারা: ১২৮)

আল্লাহর রহমতলাভের জন্য এই দোয়া করুন- رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ উচ্চারণ: ‘রব্বিগফির ওয়ার হাম ওয়া আনতা খইরুর র-হিমীন।’ অর্থ: ‘হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা মুমিনুন: ১১৮)

তাকওয়া লাভের দোয়া- اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকাল হুদা ওয়াত-তুকা ওয়াল আ'ফাফা ওয়াল গিনা।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, সুস্থতা ও সম্পদ প্রার্থনা করছি  (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৮৯)

গুনাহ মাফের দোয়া- رَبَّنَا اغۡفِرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡحِسَابُ উচ্চারণ ‘রব্বানাগফির লী ওয়ালিওয়া-লিদাইয়া ওয়ালিল মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসাব।’ অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাকে, আমার মাতা-পিতাকে এবং সব ঈমানদারকে আপনি সেই দিন ক্ষমা করে দিন, যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে।’ (সুরা ইবরাহিম: ৪১)

আরও পড়ুন: প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৪০ দোয়া

এছাড়াও রমজানের শেষপ্রান্তে এসে বান্দা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার এই দোয়া করবে— اللَّهُمَّ اغْسِلْ قَلْبِي بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا، كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন। আর আমার অন্তর গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্ত্রের ময়লা পরিষ্কার করে থাকেন এবং আমাকে আমার গুনাহ থেকে এতটা দূরে সরিয়ে রাখুন, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে যত দূরে রেখেছেন।’  (বুখারি : ৬৩৭৭)

রমজানের বিদায়লগ্নে চারিত্রিক উন্নতির এই দোয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ— اللهم اهدني لاحسن الاعمال وأحسن الاخلاق لا يهدي لاحسنها إلا أنت وقني سئ الاعمال وسئ الاخلاق لا يقي سيئها إلا أنت অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সৎকাজ ও উত্তম চরিত্রের দিকে হেদায়াত দান করো। তুমি ছাড়া কেউ এমন নেই যে, সৎকাজ ও উত্তম চরিত্রের দিকে হেদায়াত দান করবে। তুমি আমাকে অসৎ চরিত্র ও বদ আমল হতে বাঁচিয়ে রাখো। তুমি ছাড়া অসৎ চরিত্র ও বদ আমল হতে বাঁচিয়ে রাখার কেউ। (সুনানুল কুবরা: ১/৩১২)

উল্লেখিত দোয়াগুলো রমজানের শেষমুহূর্তে বেশি বেশি করা উচিত। তাওবা-ইস্তেগফারের সঙ্গে আল্লাহর প্রতি সুধারণা রেখে দোয়াগুলো করবেন। ফিরিয়ে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন- ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন : ৬০)

ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, ‘যে বান্দা তাঁর আনুগত্যের প্রতি আগ্রহী হয়, আল্লাহ তাকে দান করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর তাওফিক পেয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে চায়, আল্লাহ তাকে তাওফিক দেন। আল্লাহ বান্দার প্রতি দয়ালু। সুতরাং তিনি তাওবা করলে তাকে শাস্তি দেন না, কেউ তাওবা ও ফিরে আসার ইচ্ছা করলে তাকে অপদস্থ করেন না এবং তার তাওবা প্রত্যাখ্যান করেন না।’ (তাফসিরে তাবারি: ৪/১৬৯)

আর রমজানে দোয়া কবুলের সময়গুলোতে উল্লেখিত দোয়াগুলো বেশি পড়ার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর