মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

যাদের জাকাত দিলে সওয়াব বেশি, যাদের দিলে কবুল হবে না

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

যাদের জাকাত দিলে সওয়াব বেশি, যাদের দিলে কবুল হবে না

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো জাকাত। এটি সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত এক অলঙ্ঘনীয় ফরজ বিধান। পবিত্র কোরআনে সালাত বা নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো।’ (সুরা বাকারা: ১১০)

জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে এর সুনির্দিষ্ট খাতগুলো অনুসরণ করা অপরিহার্য। যত্রতত্র বা খাতবহির্ভূত জায়গায় অর্থ ব্যয় করলে জাকাত আদায় হয় না। পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত ব্যয়ের আটটি খাত স্পষ্টভাবে নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে-


বিজ্ঞাপন


১. ফকির: যার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।
২. মিসকিন: যে অত্যন্ত নিঃস্ব, যার কাছে কিছুই নেই।
৩. আমেল: জাকাত আদায় ও বণ্টনের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী।
৪. নওমুসলিম: ইসলামের প্রতি অনুরাগী করার জন্য নবদীক্ষিত মুসলিম।
৫. দাসমুক্তি: দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য। (বর্তমানে এই খাতটি প্রায় বিলুপ্ত)
৬. ঋণগ্রস্ত: ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যক্তি, যার ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য নেই।
৭. ফি-সাবিলিল্লাহ: আল্লাহর পথে (দ্বীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগকারী)।
৮. মুসাফির: সফরের অবস্থায় থাকা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি, যার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ নেই।

আরও পড়ুন: যেসব সম্পদের জাকাত দিতে হবে না

যাদের জাকাত দিলে সওয়াব বেশি
যারা জাকাতের বেশি হকদার তাদেরকে দিতে পারলেই সওয়াব বেশি হবে। তারা কারা? তারা হলেন-আপন ভাইবোন, ভাগনে–ভাগনি, ভাতিজা–ভাতিজি, চাচা–জেঠা–ফুফু, মামা–খালা; চাচাতো–জেঠাতো ভাইবোন, ফুফাতো ভাইবোন, মামাতো–খালাতো ভাইবোন এবং অন্য নিকটাত্মীয় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, তাহলে তাদেরকে জাকাত, সদকাতুল ফিতর, ওয়াজিব সদাকাহ, ফিদিয়া, কাফফারা ও মান্নত দেওয়া যাবে; বরং তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ হাদিস শরিফে আছে নিকটাত্মীয়দের দান করলে দ্বিগুণ সওয়াব হয়—প্রথমত, দানের সওয়াব; দ্বিতীয়ত, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব। (সুনানে নাসায়ি: ২৫৮২)

যাদের জাকাত-ফিতরা দেওয়া যায় না
১. অমুসলিম
২. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। 
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের নাবালক সন্তান। 
৪. বনু হাশেমের লোক। 
৫. মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি—এভাবে ওপরের স্তরের কাউকে জাকাত দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ যাদের মাধ্যমে দুনিয়ায় এসেছে, তাদেরসহ ওপরের স্তরের কাউকে জাকাত দেওয়া যাবে না। 
৬. নিজের মাধ্যমে যারা দুনিয়ায় এসেছে, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে ও তাদের সন্তানাদি একইভাবে তাদের সন্তানদেরও জাকাত দেওয়া যাবে না। 
৭. স্ত্রী ও স্বামী একে অন্যকে জাকাত দিতে পারবে না। 
৮. মসজিদ-মাদরাসা, পুল, রাস্তা, হাসপাতাল বানানোর কাজে ও মৃতের দাফনের কাজে জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে না। 
(ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৮৮, ১৮৯; তাতারখানিয়া: ৩/২০৬; আদদুররুল মুখতার: ৩/২৯৪, ২৯৫)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে জাকাত ফরজ?

জাকাতের অর্থ শুধু গরিবদের ব্যক্তিমালিকানায় দিলেই জাকাত আদায় হয়। মসজিদ, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে জাকাতের অর্থ খরচ করা যাবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে জাকাতের অর্থ ব্যয় ব্যক্তিবিশেষকে মালিক বানিয়ে দেওয়া হয় না। (তাতারখানিয়া: ৩/১৯৮, ২০৮; দুররুল মুখতার: ৩/১৭১-১৭৩)

জাকাতের টাকা দিয়ে কাপড় কিনে দিলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। অন্তরে জাকাতের নিয়ত রেখে মুখে তা উল্লেখ না করে দিয়ে দিলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। (হেদায়া: ১/২০৬, বাদায়ে: ২/৪৯) 

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে জাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর