শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

৩ সময় সেজদায় গিয়ে দোয়া করলে কবুল হয়

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৩, ০৫:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

৩ সময় সেজদায় গিয়ে দোয়া করলে কবুল হয়

সকল ইবাদতের শ্রেষ্ঠ অংশ হলো সেজদা। নামাজ ছাড়াও আল্লাহর জন্য সিঙ্গেল সেজদা করা যায়। আল্লাহর কাছে কোনোকিছু চাওয়ার তথা দোয়া করার ইচ্ছায় এবং শুকরিয়াস্বরূপ সেজদার নিয়ম রয়েছে। সেজদায় গিয়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কেননা আল্লাহ তাআলা সেজদার সময় সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকেন।

সেজদায় গিয়ে দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন নবীজি (স.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘বান্দা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়, যখন সেজদারত থাকে। অতএব তোমরা তখন অধিক দোয়া করতে থাকো।’ (মুসলিম: ৪৮২)


বিজ্ঞাপন


আসলে সেজদা হলো আল্লাহর প্রাপ্য। পৃথিবীর সবকিছুই মহান আল্লাহর জন্য সেজদা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু আছে নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে এবং তাদের ছায়াসমূহও (সেজদা করে) সকালে ও সন্ধ্যায়—ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায়।’ (সুরা রাদ: ১৫)

শুধু নিম্নজগতে নয়, সেজদার এই নিয়ম রয়েছে ঊর্ধ্বজগতেও। সেখানে ফেরেশতা মহান আল্লাহর উদ্দেশে সেজদা করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুসমূহের প্রতি লক্ষ করে না। তাদের ছায়া ডানে ও বাঁয়ে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি সেজদাবনত হয় বিনীতভাবে? আসমান ও জমিনে যত প্রাণী আছে, সবই আল্লাহকে সেজদা করে এবং ফেরেশতারাও। আর তারা অহংকার করে না।’ (সুরা নাহল: ৪৮-৪৯)

যারা সেজদা করে না, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণও করে না তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তাদের কী হলো যে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং যখন তাদের কাছে কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তারা সেজদা করে না।’ (সুরা ইনশিকাক: ২০-২১) তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদের সেজদা করার জন্য আহ্বান করা হবে, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না।’ (সুরা কলম: ৪২)

সেজদা এমনই এক মূল্যবান ইবাদত। অথচ বর্তমান যুগে শুধুমাত্র ক্রিকেটারদেরই দেখা যায় শুকরিয়ার সেজদা দিতে। অন্যরা সবাই যেন এই আমল ভুলে গেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বিভিন্ন সুসময় আসে, তখন আমরা শুকরিয়ার সেজদা দিতে পারি। আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ সেজদা করতে পারি। দোয়া করার জন্য সেজদা দিতে পারি। সেজদায় গিয়ে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী দোয়া করতে পারি। এ বিষয়ে অভ্যস্ত হওয়া দরকার। 


বিজ্ঞাপন


সিঙ্গেল সেজদা বা শুকরিয়ার সেজদার নিয়ম হলো- আল্লাহু আকবর বলে সেজদায় গিয়ে সেজদার তাসবিহ পাঠ করবেন, এরপর উঠে যাবেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, সিঙ্গেল সেজদা দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী (স.) এই পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। এই সেজদা হবে একটি এবং এর জন্য সতর ঢাকা, অজু করা, কেবলামুখী হওয়া এবং সালাম ফেরানো শর্ত নয়। কেননা এটি নামাজ নয়, বরং শুকরিয়া আদায়মাত্র। (ওসাইমিন, শারহুল মুমতে: ৪/৮৯-৯০, ১০৫)

তবে, তবে কেউ কেউ এই সেজদার ক্ষেত্রেও আদব রক্ষার কথা বলেছেন। সেজদা যেহেতু নামাজের রুকন, তাই সেজদার আদব রক্ষার্থে কেবলামুখী হওয়া, সতর ঠিক রাখা, অজু থাকা ইত্যাদিকে উত্তম বলেছেন তারা। 

অতএব, যেকোনো সময় দোয়া করতে হলে আল্লাহর হামদ এবং নবীজির ওপর দরুদ পাঠের পর দুরাকাত নামাজের সেজদায় গিয়ে অথবা সিঙ্গেল সেজদায় গিয়ে দোয়া করলে কবুল হবে ইনশাআল্লাহ। নবীজি (স.) সেজদায় কখনো কখনো তাসবিহের সঙ্গে এ দোয়াটি পড়তেন— سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি। অর্থ: হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ্‌! আমাকে ক্ষমা করে দিন। (বুখারি: ৭৬১; মুসলিম: ৪৮৪)

আল্লাহর খুব কাছাকাছি যাওয়ার জন্য এবং দোয়া কবুলের জন্য আরেকটি সুন্দর সময় হলো ভোর রাত। এই সময় সেজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন। তখন আল্লাহ তাআলা শেষ আসমানে চলে আসেন বান্দার ডাক শোনার জন্য। হাদিসে এসেছে— ‘আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিচের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব! কে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে দান করব! আর কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব!’ (সহিহ বুখারি: ১১৪৫, মুসলিম: ৭৫৮)

দোয়া কবুলের আরেকটি অন্যতম সময় হলো আরাফাতের দিন। সেদিন ওই ময়দানে থাকাবস্থায় দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘আরাফার দিনের মতো আর কোনোদিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন। আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)

জাবের (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, সেদিন আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন, দেখো- আমার বান্দারা উস্কোখুস্কো চুলে, ধুলোমলিন বদনে, রোদে পুড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে সমবেত হয়েছে। তারা আমার রহমতের প্রত্যাশী। অথচ তারা আমার আজাব দেখেনি। ফলে আরাফার দিনের মতো আর কোনোদিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৩৮৫৩)

অতএব, সেজদা শুকরিয়াস্বরূপ দেওয়া যায়, দোয়া করার জন্যও দেওয়া যায়। যেকোনো বিষয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য সেজদায় লুটিয়ে পড়েন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ইনশাআল্লাহ সেই দোয়া কবুল হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর