অহংকার একটি ধ্বংসাত্মক মানবীয় ত্রুটি। হাদিসের পরিভাষায়- ‘সত্যকে অস্বীকার করা, মানুষকে হেয় করা, নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় জানা এবং অন্যকে তুচ্ছ-নিকৃষ্ট মনে করাই অহংকার। ‘অহংকার পতনের মূল’—কথাটির সত্যতা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তিনি অহংকারীদের ভালোবাসেন না।’(সুরা নাহল: ২৩)
ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম গুনাহ হলো অহংকার। এই গুনাহের কারণে শয়তানে রূপ নিয়েছে ইবলিস। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সেজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সেজদা করল। সে শুধু অহংকারবশত সেজদা করতে অস্বীকার করল। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’(সুরা বাকারা: ৩৪)
বিজ্ঞাপন
নবীজি (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’(সহিহ মুসলিম: ১৬৭)
অহংকারীদের ইহকালীন শাস্তি
অহংকার এমন ধ্বংসাত্মক ব্যাধি যার শাস্তি দুনিয়াতেই বহন করার অনেক নজির রয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, বনি ইসরাইলের এক অহংকারীকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগেও এমন ঘটনা ঘটে। সহিহ বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে, ‘একদা এক ব্যক্তি এক জোড়া জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে (রাস্তা দিয়ে) চলছিল। তা নিয়ে খুব গর্ব বোধ হচ্ছিল তার। তার জমকালো লম্বা চুলগুলো সে খুব যত্নসহকারে আঁচড়ে রেখেছিল। হঠাৎ আল্লাহ তাআলা তাকে ভূমিতে ধসিয়ে দেন এবং সে কেয়ামত পর্যন্ত এভাবেই নিচের দিকে নামতে থাকবে।’ (বুখারি: ৫৭৮৯)
সালামা ইবনে আকওয়া (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ সর্বদা অহংকার করতে থাকে, অতঃপর একটি সময় আসে, তার নাম জাব্বারিনদের (অহংকারী জালেম) খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। তখন তাকে এমন আজাব গ্রাস করে, যা অহংকারীদের গ্রাস করেছিল’। (তিরমিজি: ২০০০, হাদিসটি হাসান)
এই হাদিসের বাস্তব নমুনা হলো- মানুষ প্রথমেই বড় ধরণের জালেম হয় না। বরং তা হলো চলমান প্রক্রিয়া। এক পর্যায়ে সে জাব্বারিনদের কাতারে অর্থাৎ অহংকারী ফেরাউন, হামান ও কারূনের কাতারে শামিল হয়। অহংকারীর পরিণাম বর্ণনায় হাদিসে আরও এসেছে, ‘একদিন এক লোক রাসুলুল্লাহ (স.)-এর দরবারে বাম হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করলে আল্লাহর রাসুল (স.) তাকে বললেন, তুমি ডান হাত দিয়ে খাও। উত্তরে লোকটি বলল, আমি পারছি না। তার কথার প্রেক্ষাপটে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি পারবে না? মূলত রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কথা অমান্য করতে তাকে অহংকারই বিরত রাখে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি আর কখনোই তার হাতকে তার মুখ পর্যন্ত ওঠাতে পারেনি। (সহিহ মুসলিম: ২০২১)
বিজ্ঞাপন
অহংকারীর কাছ থেকে মানুষ সরে পড়ে। এক সময় সে নিঃসঙ্গ হয়ে যায়। একাকীত্বের যন্ত্রণায় সে ছটফট করতে থাকে। মূলত মানুষ অহংকার করার অধিকার রাখে না, কোনো সৃষ্টিরই এ অধিকার নেই। অহংকার করার অধিকার শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলারই। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ইজ্জত-সম্মান হচ্ছে আমারই পোশাক এবং গর্ব-অহংকার হচ্ছে আমারই চাদর। তাই যে ব্যক্তি এ দুয়ের কোনোটি নিয়ে টানাটানি করবে, তাকে আমি কঠোর শাস্তি দেবো। (রিয়াজুস সালেহিন: ৬২৩; মুসলিম: ২৬২০; আবু দাউদ: ৪০৯০, ইবনু মাজাহ: ৪১৭৪, আহমদ: ৭৩৩৫) দুনিয়াতে অহংকারের শাস্তি, অহংকারীর দুনিয়াবি শাস্তি, অহংকারের শাস্তি দুনিয়াতে
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অহংকারমুক্ত এবং সুন্নত অনুযায়ী জীবন যাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।




