শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘গণতন্ত্র সুসংহত ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে কাজ করছে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘গণতন্ত্র সুসংহত ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। 

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী পদমর্যাদার এই উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, সমৃদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সংঘটিত সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়।

আলোচনা সভায় দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নেও দেশটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

এ জন্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

S

দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তারা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েই দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন না, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করছেন। প্রবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দিন। জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্য এবং দেশপ্রেমের বিকল্প নেই।

জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি; আমাদের স্বার্থ একটাই, বাংলাদেশের স্বার্থ; আমাদের অঙ্গীকার একটাই, সবার আগে বাংলাদেশ।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন। দেশের অগ্রগতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর