শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রেকর্ড ভাঙল অভিবাসন: ইইউতে ৬.৪২ কোটি বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ

মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ এএম

শেয়ার করুন:

রেকর্ড ভাঙল অভিবাসন: ইইউতে ৬.৪২ কোটি বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অভিবাসীর সংখ্যা ২০২৫ সালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। “ল্য জুরনাল দ্যু দিমান্শ” সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অন মাইগ্রেশন-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, ইইউ অঞ্চলে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪২ লক্ষে। অর্থাৎ এসব মানুষ এমন, যারা নিজ দেশের বাইরে জন্ম নিয়ে পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লক্ষ বেশি। ইউরোস্ট্যাট এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে ইইউতে অভিবাসীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে- তখন এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি।


বিজ্ঞাপন


ইউরোপে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে জার্মানি এখনও শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ বসবাস করেন, যাদের মধ্যে ৭২ শতাংশই কর্মক্ষম বয়সের। শ্রমবাজার ও জনসংখ্যাগত চাহিদার কারণে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে স্পেনে সবচেয়ে দ্রুত অভিবাসী বৃদ্ধির হার দেখা গেছে। গত বছরে প্রায় ৭ লক্ষ নতুন অভিবাসী যুক্ত হওয়ায় দেশটিতে মোট অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৯৫ লক্ষে পৌঁছেছে। গবেষণার সহলেখক তোমাসো ফ্রাত্তিনি বলেন, ‘জার্মানি ইউরোপে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবেই রয়ে গেছে, মোট সংখ্যা এবং জনসংখ্যার অনুপাতে- উভয় ক্ষেত্রেই।’

প্রতিবেদনটি ইইউর অভ্যন্তরে অভিবাসনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যও তুলে ধরেছে। লুক্সেমবার্গ, মাল্টা ও সাইপ্রাসের মতো ছোট দেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার তুলনায় অভিবাসীর হার অনেক বেশি।

আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনও কয়েকটি দেশে কেন্দ্রীভূত। স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানি মিলেই ইইউতে জমা পড়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করে। শরণার্থী সুরক্ষার ক্ষেত্রেও জার্মানি শীর্ষে রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


অভিবাসনের এই প্রবণতা ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ফ্রান্সের ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি দলের এমপি ম্যাথিয়াস রেনো সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন, ইইউতে প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীর সংখ্যা এখন ৬৪ মিলিয়ন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ২৫ মিলিয়ন বেশি এবং ইইউ জনসংখ্যার প্রায় এক-সপ্তমাংশ।

এদিকে স্পেন সরকার অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ৫ লক্ষ বিদেশিকে বৈধতা দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সরকারের দাবি, শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এই পদক্ষেপ।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের ডানপন্থী দল লে রেপ্যুব্লিক্যাঁর নেতা ব্রুনো রেতাইয়ো। এলসিআই টেলিভিশনে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘ইউরোপীয় চেতনার পরিপন্থী’ এবং এমন নীতি অব্যাহত থাকলে তা ইউরোপে অভিবাসন চাপ আরও বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক সংকট মিলিয়ে অভিবাসন ইস্যু আগামী বছরগুলোতেও ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর