বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও বোন হারানোর খবর জানে না ফাইজা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও বোন হারানো ফাইজা এখন বাড়িতে
ফাইজা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত 

‘আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ তাই মামার সাথে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাবো না।’ —কথাগুলো বলছিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমীর (৩০) মেঝ মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১)।

একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ফাইজার বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহসহ গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। মা-বাবা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো জানেনা ফাইজা আক্তার। সে জানে তারা ঈদের আগেই ফিরে আসবেন। মা-বাবা, বড় বোন ও ছোটবোনদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ করবে বলে অপেক্ষায় আছে ফাইজা। 


বিজ্ঞাপন


দুর্ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে গত সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামা তানভীর আহম্মেদ ফাইজা আক্তারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। 

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের হোটেল কফি-শপ ব্যবসায়ী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব যান।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওমরা পালন শেষে সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় কন্যা মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবাহসহ গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গতকাল সোমবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির ফাইজার দাদার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার চাচা বাহারুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের চারজন সদস্যের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হসপিটালের মর্গে। তাদের মরদেহ দেশে আনতে হলে দরকার ১৫/১৬ লাখ টাকা। এত টাকা কোথায় পাবো আমরা!


বিজ্ঞাপন


কাতার ফেরত ফাইজার মামা মামুন হোসেন বলেন, আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মরতদের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি তারা যেন আমাদের মরদেহগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

একই দুর্ঘটনায় নিহত হন ভোলাকোট ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন খোকার ছেলে গাড়ি চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী ওরফে বাবর ।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, মিজানুর রহমান ছিলেন এলাকার নম্র-ভদ্র স্বভাবের। গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁতেন তিনি। দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান স্বজনরা।

অতিরক্তি জেলা প্রশাসক সার্বিক সম্রাট খীসা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো আনতে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ক.ম/ 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর