মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বুদাপেস্টে সমাবেশ

ঢাকা মেইল ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বুদাপেস্টে সমাবেশ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গত ২৪ জানুয়ারি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গত ২৪ জানুয়ারি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন।  
 
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, হাদী আমাদের সবার জন্য লড়াই করেছেন, আজ তাঁর হত্যার বিচারের দাবিতে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নটি রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যে মানুষটি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ‘ইনসাফের’ কথা বলে গেছেন, আজ তাঁর নিজের বেলায় ইনসাফ কোথায়?

ভিডিওতে উঠে আসা প্রবাসীদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যগুলো প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়:


বিজ্ঞাপন


গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা: বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহর থেকে খুনিরা কীভাবে সবার চোখের সামনে দিয়ে ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে দেশত্যাগ করল? খুনিরা যখন বিদেশ থেকে ভিডিও বার্তা দিচ্ছে, তখন আমাদের আইপি ট্র্যাকিং ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা কি কোনো ‘গোপন শক্তির’ নির্দেশেই?

হুমকি ও প্রশাসনের উদাসীনতা: হাদি হত্যার আগে শাহবাগ থানায় জিডি করেছিলেন, তাঁকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু প্রশাসন কেন একটি ফোন দিয়েও সেই অপরাধীদের খোঁজার চেষ্টা করেনি? বক্তাদের মতে, এটি শুধুমাত্র ব্যর্থতা নয়, এটি একটি সচেতন বিশ্বাসঘাতকতা।

বিচারের বদলে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা: সরকার হাদির পরিবারকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার যে কথা তুলছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রবাসীরা। হাদি টাকা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন তাঁর খুনের বিচার। বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, উপদেষ্টা পরিষদের কারো ওপর হামলা হলে কি বিচার এতো বিলম্বিত হতো? তবে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য কি কেবল কয়েক কোটি টাকায় নির্ধারণ হবে?

আধিপত্যবাদ ও সাংস্কৃতিক গোলামি: সমাবেশে বক্তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হাদীর লড়াইকে স্মরণ করে বলেন, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চায়, হাদি ছিলেন তাদের পথের কাঁটা। হাদি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এবং রাজপথে এই আধিপত্য রুখতে হয়।


বিজ্ঞাপন


বক্তাদের একটি কথা আজ পুরো জাতির জন্য সতর্কবার্তা: হাদিকে মেরে ফেলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাদি আজ লন্ডনে, নিউইয়র্কে, বুদাপেস্টে হাজার হাজার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। প্রবাসীরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে নয়, বরং হাদির ভাই হিসেবে ইনসাফের দাবিতে লড়ে যাবেন। 

hadi_murder_protibad_in_budapest
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গত ২৪ জানুয়ারি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

 

বক্তারা বলেন, আমরা মনে করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে তারা চরম বেঈমানি করবে। ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা কেন এখনো ধোঁয়াশায় ঘেরা? খুনিরা কার মদদে বাইরে ঘুরছে, তা রাষ্ট্রকে পরিষ্কার করতে হবে।

ওসমান হাদিকে মেরে ফেলা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু তাঁর আদর্শকে নয়। আজ বুদাপেস্ট থেকে ঢাকা—সর্বত্রই জেগে উঠছে হাদির ভাইয়েরা। ইনসাফের মিছিলে যে মানুষটি সবার আগে ছিল, তাঁর রক্তকে আমরা সস্তা হতে দেব না। রাষ্ট্র যদি আজ এই হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইতিহাসের কাছে তাদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে জবাবদিহি করতে হবে। হাদির অসমাপ্ত লড়াই এখন আমাদের কাঁধে। অবিলম্বে খুনিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক—নয়তো এই বিচারহীনতার আগুন একদিন পুরো ব্যবস্থাকেই ভস্মীভূত করে দেবে।

এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর