রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা-১৭ 

দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন আয়েবা মহাসচিব এনায়েত 

জমির হোসেন, ইতালি থেকে
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন আয়েবা মহাসচিব এনায়েত 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। নির্বাচনকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সরগরম। চারিদিকে শুধু নির্বাচনী হাওয়া। 

অনানুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণায় কেউ যেন পিছিয়ে নেই। যে যার মত করে পারছে ভোটারদের কাছে ভোট প্রত্যাশা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বেন ফ্রান্স প্রবাসীদের কাছে আলোচিত মুখ ইউরোপের বৃহৎ সংগঠন অল ইউরোপীয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন- আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ। 


বিজ্ঞাপন


এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ফ্রান্স প্রবাসী ও অরাজনৈতিক সংগঠন আয়েবা’র মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ।

এ আসনে প্রার্থী হিসেবে সারাদেশে বিশেষ আলোচিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী ড. খালিদুজ্জামান। এই দুই শক্তিশালী প্রার্থী নিজ নিজ রাজনৈতিক বলয়ে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে।  

রাজনৈতিক পর্যালোচনায় ঢাকা-১৭ আসন রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন এবং দলীয় প্রভাব এখানে বরাবরই প্রবল বলেই জানা গেছে। সেই বিবেচনায় দুই বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির বিপরীতে একজন স্বতন্ত্র ও অরাজনৈতিক প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটের সমীকরণে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। 

অভিজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশেষ করে রাজনীতির বাইরে থাকা ভোটার, উঠতি তরুণ সমাজ এবং পরিবর্তনমুখী নাগরিকদের একটি অংশ এই ধরনের প্রার্থীর প্রতি আগ্রহ দেখাতে পারেন।


বিজ্ঞাপন


তবে কঠিন বাস্তবতা হলো, দলীয় কাঠামো, মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক—এই তিনটি দিকেই বড় দলগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থীর চেয়ে বরারবর এগিয়ে থাকে। যার ফলে কাজী এনায়েত উল্লাহর জন্য বড় এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সীমিত সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে বৃহৎ জনসমর্থন তৈরি করা। 

অন্যথায় টিকে থাকা কষ্ট হয়ে পড়বে। ধারণা করা হচ্ছে সাধারণ জনগণ যে পরিবর্তন চাচ্ছে যদি তা বাস্তবে রুপ নেয় তবে ভোটের মাঝে কাজী এনায়েত উল্লাহ জনসমর্থনে এগিয়ে যাবে। তা এখন সময়ের ব্যাপার।

অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন যদি ভোটারদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতি অনাস্থা বা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জোরালো হয়, তাহলে এই আসনে অপ্রত্যাশিত ফলও দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ঢাকা-১৭ আসন একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে দলীয় রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়েও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব।

সব বিচার বিশ্লেষণে, ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বা দলের লড়াই নয়, বরং এটি হতে পারে পরিচিত রাজনীতির সঙ্গে বিকল্প ধারার রাজনীতির মুখোমুখি অবস্থান।  যার ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। 

এদিকে কাজী এনায়েত উল্লাহর দাবি, প্রার্থী হিসেবে তিনি বেশ উপযুক্ত, শিক্ষা, সামাজ ও পরিবেশবান্ধব একজন সৎ নিষ্ঠাবান ব্যক্তি। তার কোন বিকল্প নেই। তিনি একই সঙ্গে প্রবাসীরদের প্রতিতিনিধিত্ব করতে চান সংসদে। এ জন্য সবার দোয়া চান তিনি।

তাছাড়া তিনি বহির্বিশ্বে একজন আলোচিত ব্যক্তি। ইউরোপ-আমেরিকা এবং এশিয়াসহ পৃথিবীর প্রতিটি দেশে প্রবাসীদের মধ্যে সুপরিচিত সংগঠক এবং জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে প্রবাসীদের পাশে থেকে নিরলস ভাবে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

তাই অনেকের ধারণা, কাজী এনায়েত উল্লাহকে যদি সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে বেছে নেন, তবে সাধারণ মানুষ উভয় দিকে উপকৃত হতে পারেন। যেমন দেশে জনগণের পক্ষে, তেমনি বিদেশে প্রবাসীদের পক্ষে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর