বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল লস এঞ্জেলেসের উদ্যোগে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেলে কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে কনসাল জেনারেল কাজী মুহম্মদ জাবেদ ইকবালের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতে প্রয়াত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, বহুদলীয় ব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া ধারাবাহিক নিপীড়ন, রাজনৈতিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারের মুখোমুখি হলেও আপসহীন অবস্থান বজায় রেখে জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই অবস্থানই তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে একজন জাতীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রনায়কসুলভ নেতৃত্ব, জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তার অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অটুট ছিল, যা তার জানাজা ও সর্বস্তরের মানুষের শোক প্রকাশে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান যে, তার মৃত্যুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের শোক প্রকাশ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি তাৎপর্যপূর্ণ নিদর্শন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, মর্যাদা এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দৃঢ় ও সম্মানজনক সংযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে প্রবাসীদের অবদানকে তিনি রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিই প্রবাসী সমাজের মধ্যে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করেছে।
আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা লাভ করে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান গ্রহণ করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি সুদৃঢ় করতে সহায়ক হয়।
এই দোয়া মাহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
গত ২৩ ডিসেম্বর অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তিনি মারা যান। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মিলিয়ন মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা সম্পন্ন হয় এবং একদিন তাকে জিয়া উদ্যানে প্রয়াত স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে দেশব্যাপী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, লস এঞ্জেলেসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে কনস্যুলেটে কূটনীতিকদের জন্য একটি শোক বই এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পৃথক আরেকটি শোক বই খোলা হয়, যা নির্ধারিত সময়ে স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
এএইচ

