আ.লীগের হাতে বারবার গণতন্ত্র নিহত হয়েছে: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৩, ০৬:৫২ পিএম
আ.লীগের হাতে বারবার গণতন্ত্র নিহত হয়েছে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের হাতে গণতন্ত্র বারবার নিহত হয়েছে। সেটা পুনরুদ্ধার করেছেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া।

রোববার (১৯ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে একটি হোটেলে ‘কর্তৃত্ববাদের উত্থান ও বিপন্ন গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, সংকট হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থায়, আমরা একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এই রাষ্ট্র পেয়েছি। সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, রাজনৈতিক অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। সংকটটা ওই জায়গায়। আর বিপন্ন হওয়ার কারণ হচ্ছে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় যে কমিটমেন্ট, যে প্রতিশ্রুতি আমরা জনগণের সামনে দিয়েছিলাম, তৎকালীন যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজকের এই ৫২ বছরে সমস্ত কমিটমেন্টগুলো নস্যাৎ করে দিয়ে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দ্বিতীয়বারের মতো ছদ্মবেশে নিয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগের হাতে গণতন্ত্র বারবার নিহত হয়েছে। সেটা পুনরুদ্ধার করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেটা আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেনি। দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বিনা পরোয়ানা ও বিনা মামলায় তুলে নিয়ে একই কায়দায় নাশকতা, বিস্ফোরণের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখায়। মামলায় ১০০ জনের নাম দেয় ওই এলাকায় যারা বিএনপির নেতাকর্মী। বাকি দেয় ১০০০ অজ্ঞাতনামা। পঞ্চগড়ে দিয়েছে ১৬ হাজার অজ্ঞাতনামা। এতে দুটি কাজ হয়, ওই মানুষগুলো ঘরছাড়া হয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যায়। আরেকটি হলো বিরাট বাণিজ্য শুরু হয়ে যায়। যারা ভুক্তভোগী তারাই এটা জানে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, আমাদের ১০ দফায় পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। বর্তমান সংসদকে বিলুপ্ত করতে হবে। কারণ এ সংসদ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ নয়। ২০১৪ ও ১৮ সালে কিভাবে নির্বাচন হয়েছে, সেটা আপনারা জানেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সকল দলের রাজনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি কেয়ারটেকার সরকার তৈরি করতে হবে। তাদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সে নির্বাচন কমিশন নতুন করে নির্বাচন ব্যবস্থা করবে। সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট হবে নতুন সরকার গঠন করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের এই সংকট উত্তরণের দায়িত্ব শুধু বিএনপির নয়। এটা সকল রাজনৈতিক দলের সকল মানুষের দায়িত্ব।

‘৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এটা কি চিন্তা করা যায়? কোনো সভ্য গণতন্ত্রীয় দেশে একটি গণতান্ত্রিক দলের ৩০ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়? এটাকে কী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায়?’- বলেন ফখরুল।

এমই/এমআর