মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪, ঢাকা

আন্দোলনের জন্য কতটা প্রস্তুত ঢাকা মহানগর বিএনপি

মো. ইলিয়াস
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আন্দোলনের জন্য কতটা প্রস্তুত ঢাকা মহানগর বিএনপি

সরকার পতনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলেছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে ডান-বাম ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করছে বিএনপি।

দীর্ঘ এক যুগের বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে একাধিকবার তৃণমূলের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কার্যকর আন্দোলন নিয়ে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে বারবার এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর রাজপথ উত্তপ্ত করতে ব্যর্থ ঢাকা মহানগর বিএনপি। এখন প্রশ্ন উঠেছে, চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য কতটা প্রস্তুত ঢাকা মহানগর।


বিজ্ঞাপন


BNPআগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজপথে যে আন্দোলনে রয়েছে বিএনপি, ঢাকা মহানগর সেই আন্দোলনে কতটা সাংগঠনিক দক্ষতা দেখাতে পারবে সেটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপির হাইকমান্ড। ঢাকা মহানগরকে শক্তিশালী করতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এরইমধ্যে নানাবিধ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতায় বেগ পেতে হচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে।

>> আরও পড়ুন: সরকারের পতন ঘটানো পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ১২ দলীয় জোট

মহানগর বিএনপির নেতারা জানান, মামলা, হামলা, গ্রেফতারসহ সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে মজবুত ভিত্তির ওপর সংগঠনকে সাজানোর চেষ্টা করছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। আগের চেয়ে এখন ঢাকা মহানগর বিএনপি অনেক বেশি শক্তিশালী। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে কাউন্সিলের মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে থানা কমিটিও ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের উদ্যোগে নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ৩০টির বেশি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। জ্বালানির তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সারাদেশে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১৬টি সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে।

BNPমহানগর বিএনপি নেতারা জানান, চলমান আন্দোলনকে গতিশীল করার জন্য কেন্দ্র থেকে যখন যে নির্দেশ আসবে সেটা পালনের জন্য মহানগরীর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। নেতারা যখন যে নির্দেশ দেবেন তা মানার জন্য শতভাগ প্রস্তুত। এখন পিছে হাঁটার সুযোগ নেই, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। দাবি-দাওয়া রাজপথেই আদায় করব। রাজপথেই ফয়সাল হবে, এর বিকল্প কিছু নেই। এ সরকারের পতন হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা, হামলা, বাধা, গ্রেপ্তার, যত নির্যাতনই আসুক না কেন আমরা প্রস্তুত।


বিজ্ঞাপন


মহানগরের আগের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট ছিল বিএনপির হাইকমান্ড। তাই আন্দোলনে গতি ফেরাতে গত বছরের ২ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তরে আমান উল্লাহ আমানকে আহবায়ক ও আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে ৪৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। অপরদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে আব্দুস সালামকে আহ্বায়ক ও রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করে ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

BNPঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে কিন্তু মামলা, হামলা, গ্রেফতার করে আন্দোলন দমানো যাবে না। আমরা বারবার বলছি, সরকার আমাদের দাবি মেনে নিক, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় না হয় তাহলে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের পতন হবে। যদি জোর করে নির্বাচন করতে চায় সেটা পারবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত ইসলামী যা করেছে আমাদেরকে যদি সেদিকে ঠেলে দেয় তাহলে আমাদের তাই করতে হবে। সেটা কখন হবে সময় বলে দেবে। আওয়ামী লীগ যদি শক্তি প্রয়োগ করতে চায় তাহলে সরকারের প্রশাসনকে রেখে তারা করুক। সরকারের প্রশাসনকে কেন তারা ব্যবহার করবে।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা ঢাকা মেইলকে বলেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি অনেক বেশি শক্তিশালী। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে না, বিএনপির আন্দোলন হচ্ছে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য। দেশে যে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা চলছে, এর থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য আমাদের এই আন্দোলন। এ সরকারের পতন হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা, হামলা, বাধা, গ্রেপ্তার- যতই নির্যাতন আসুক না কেন আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

>> আরও পড়ুন: দেশ বাঁচাতে আ.লীগের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: কর্নেল অলি

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে সেকেন্দার কাদির ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা যে আন্দোলন করছি এটা জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমাদের আন্দোলন নয়, সাধারণ মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে সে জন্যই আমাদের আন্দোলন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি এলাকায়, মহল্লায় জনমত গঠন করা। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আমরা আমাদের দাবি আদায় করব। আন্দোলনকে গতিশীল করার জন্য আমাদের থানা কমিটি খুব দ্রুত ঘোষণা করা হবে। যেকোনো ধরনের আন্দোলন সফল করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুত। তিনি বলেন, ১৪ সালে আমরা যে আন্দোলন করেছি- এটা ভুল ছিল। এটার মাশুল এখন সাধারণ জনগণ দিচ্ছে। আমরা এটা ইতিমধ্যে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। বিএনপিকে দিয়ে আর খারাপ কাজ করানো যাবে না। আমাদের দাবি হচ্ছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন।

BNPঢাকা দক্ষিণ বিএনপির ৫২নং ওয়ার্ডের সভাপতি রবিউল ইসলাম দিপু ঢাকা মেইলকে বলেন, বিএনপির আন্দোলনে এখন সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করছে। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এত নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করার পরও দিন দিন কর্মসূচিগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। আমরা হরতাল অবরোধ চাই। কিন্তু এ ধরনের কর্মসূচির সময় এখন নয়। হরতাল অবরোধ ছাড়া এই সরকারকে পদত্যাগ করানো সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন ঢাকা মেইলকে বলেন, বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সরকারের নানা বাধা-বিপত্তির পরও ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশ আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এজন্য আমাদের নেতাকর্মীরা সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজপথে যে আন্দোলন চলছে তার গতি ধীরে ধীরে বাড়বে এবং আমাদের দাবি-দাওয়া রাজপথেই আদায় করব। রাজপথেই ফয়সাল হবে। এর বিকল্প কিছু নেই। ১০ দফা এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখার সাথে মানুষ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। সব দল মিলে যে আন্দোলন শুরু করেছে এতে গতি আরও বাড়বে এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকার বাধ্য হবে। কেন্দ্র থেকে যখন যে ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে তা পালনোর জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। কর্মসূচি পালন করতে গেলে বাধা-বিপত্তি আসবেই। কিন্তু আমাদের পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই। আন্দোলনে সফলতার জন্য জনগণকে সম্পৃক্ততার করতে দল কাজ করছে। এর সফলতা দেশের মানুষ অচিরেই দেখবে।

>> আরও পড়ুন: আ.লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এর কোনো সত্যতা নেই: মঈন খান

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা এবিএমএ রাজ্জাক ঢাকা মেইলকে বলেন, যেকোনো কর্মসূচি পালনের জন্য ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আন্দোলন আরও গতিশীল করার জন্য ঢাকা মহানগর উত্তরের সব থানা কমিটি ঘোষণা করা হবে। যারা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন তাদেরকে দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। দাবি আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো কর্মসূচি পালন করতে উত্তর বিএনপির সর্বাত্মক প্রস্তুত। অবৈধ সরকারের পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতে ঢাকা উত্তর কাজ করছে। কোনোভাবেই আমাদের এই আন্দোলনকে ব্যাহত করতে পারবে না।

BNPঢাকা দক্ষিণ বিএনপির ৬৪ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল ভুইয়া তুহিন ঢাকা মেইলকে বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আন্দোলন করছে। ব্যাংক ডাকাতি, টাকা পাচার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে ছিল বিএনপি। এখন বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি এবং খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। এই আন্দোলন সামনে আরও শক্তিশালী হবে, বেগবান হবে। মামলা, হামলা, অত্যাচার যতই করা হোক না কেন আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পিছপা হব না। এই অবৈধ, দুর্নীতিবাজ, মাফিয়া সরকারের পদত্যাগ আমাদের একমাত্র দাবি। আমরা রাজপথে থেকে এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়ে যাব। বিরোধী দলগুলো আমাদের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন এবং আমাদের সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। এতে আমরা আন্দোলনের সফলতা দেখছি। সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সরকার এবং মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করা দরকার আগামীতে বিএনপি জনগণকে নিয়ে তাই করবে। নেতারা যখন যে নির্দেশ দেবেন তা মানার জন্য আমরা শতভাগ প্রস্তুত। এখন আমাদের পিছে হাঁটার সুযোগ নেই, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

এমই/জেএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর