দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেও চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুন অর রশীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি স্পিকার। আগামী ২০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে সশরীরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ।
এদিকে গত রোববার বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু বিদেশে থাকা হারুন অর রশীদ ই-মেইলে পদত্যাগপত্র দিলেও তার স্বাক্ষর স্ক্যান করা থাকায় গ্রহণ করেননি স্পিকার। যে কারণে দেশে ফিরে নিজেই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
ওইদিন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, পদত্যাগপত্র সশরীরে জমা দিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে হারুনুর রশীদ পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ই–মেইলে, সই স্ক্যান করে বসানো। এটা গ্রহণ করা হবে না, তাকে আবার পদত্যাগপত্র দিতে হবে।’
হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি বিশেষ কাজে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছি। ২০ ডিসেম্বর দেশে ফিরে সশরীরে পদত্যাগপত্র জমা দেব।’
পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করছি। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের প্রথম ধাপ। ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে যে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সবগুলো এখন বাস্তবায়ন করা হবে।’
এরইমধ্যে পদত্যাগ কার্যকর হওয়া বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার দিনেই ছয়টি আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দ্রুতই তারা এই আসনগুলোতে নির্বাচন দেবেন। সেক্ষেত্রে চলতি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে তফসিল ঘোষণা করতে পারে কমিশন।
এর আগে গত শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। সমাবেশে জানানো হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সংসদ থেকে পদত্যাগে করছেন।
বিইউ/এইউ




