সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

৭১ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে সরকার: মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

৭১ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে সরকার: মোশাররফ

নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ৭১ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, এরকম নজিরবিহীন হামলা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরাও চালায়নি।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তছ-নছ করেছে, লুটপাট করেছে, নজিরবিহীনভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ের প্রতিটি ফ্লোরে, প্রতিটি কক্ষে লন্ড-ভন্ড করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষের দরজা তালা ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। চেয়ারপারসনের অফিসের দরজা ভেঙে চুরমার করা হয়েছে; কক্ষের ভেতর চেয়ারপারসন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, আমাদের অফিসের কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, ফাইলপত্র ও সব নথিপত্র তারা নিয়ে গেছে। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের প্রতিটা অফিস থেকে কম্পিউটার হার্ডডিস্কসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছে। এছাড়া আমাদের একটি একাউন্ট অফিস রয়েছে সেখান থেকেও সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

মোশাররফ বলেন, ‘৭ ডিসেম্বর পুলিশ যেভাবে হামলা চালিয়েছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন। নিন্দা করার ভাষা নেই। অফিস থেকে সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করেছে। সাড়ে ৪ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এইসব গ্রেফতারের উদ্দেশ্য ছিল ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ পণ্ড করা। মধ্যমপন্থী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি তাদের কর্মসূচি করেছে। 

তিনি বলেন, প্রতিটি সমাবেশে বাধা দিয়েছে সরকার। কোন ভিত্তিতে এই ঘটনা ঘটালো তা আমাদের হিসাবে মেলে না। তাদের হিসাবে এটা খেলা, কিন্তু বিএনপি এই খেলায় বিশ্বাস করে না। জনগণ বিক্ষুব্ধ, জনগণ রায় দিয়েছে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনা আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্ভব না। জনগণ সরকারকে আর চায় না। ৭ ডিসেম্বরের আচরণ প্রমাণ করে এই সরকার গায়ের জোরের সরকার। ১০ দফা দিয়েছি। এই ১০ দফাকে সমর্থন করে যারা যুগপৎ আন্দোলন করবে তারাও কর্মসূচি দিয়েছে। নেতাক-র্মীদের মুক্তির দাবিতে ১৩ ডিসেম্বর নয়াপল্টন অফিসের সামনে থেকে গণমিছিল করবে বিএনপি। 

মোশাররফ আরও বলেন, গতকাল অফিসে আসতে পেরেছি, কি কি খোয়া গেছে তার তালিকা করছি। তারপর সিদ্ধান্ত নেবো। ১০ ডিসেম্বরে যা প্রত্যাশা করেছিলাম তার থেকে বেশি জনসমাগম হয়েছে। তারপর সরকার যদি এটাকে ব্যর্থ বলে তাহলে কিছু বলার নেই। সরকার দিশেহারা, তারা কোন সময় কি বলবে তা নিয়ে আমরা ভ্রুক্ষেপ করি না। দেশের জনগণও জানে সরকার যা বলে তা করে না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের নির্দেশে তাদের দলের কর্মীরা ১০ তারিখ ঘিরে এমন কোনো অপকর্ম বাদ নেই যা তারা করেনি। আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, কিন্তু বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে দেখিয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন গণতান্ত্রিকভাবে করবো, এবং এই সরকারের বিদায় জানাবো।

আব্দুল মইন খান বলেন, ১০ তারিখের সমাবেশের লক্ষ্য ছিল মানুষের সামনে তুলে ধরা বর্তমান সরকারের চরিত্র। বিরোধী দল সরকারের একটি অঙ্গ, তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা থাকতে পারে না এবং নেইও। 

এ সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, অনিন্দ ইসলাম অমিত, বিএনপি নেতা আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, নাজিম উদ্দিন আলম, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, শাম্মী আক্তার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা সামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমই/এইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর