সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিএনপির ১০ দফায় দেশ ও জনগণের কিছু নেই: হানিফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপির ১০ দফায় দেশ ও জনগণের কিছু নেই: হানিফ

ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফায় দেশ ও জনগণের জন্য কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। 

রোববার (১১ ডিসেম্বর) ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সাথে এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, তারা কর্মসূচি দিয়েছে সেখানে দেশের কথা নেই, জনগণের জন্য কিছু নেই। তবে বিএনপির ব্যক্তি দাবি আছে এখানে। তারা দেশের সংবিধান মানবে, আইন মানবে আবার বলবে যে নেত্রী খালেদা জিয়ার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কেন? তিনি আদালতে রায়ে প্রমাণিত। মামলা চলেছে ৮ বছরের ওপরে। খালেদার বাঘা বাঘা আইনজীবীরা নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি। দফায় দফায় সময় নিয়েছে। তবুও নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি। পারবে কেন, খালেদা জিয়া এমন একটি কাজ করেছিল। তারেক রহমান টাকা আত্মসাত করেছে। এটি প্রমানিত। এখন তাকে মুক্তি দিতে হবে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছেড়ে দিতে হবে? দেশের সকল আসামিই তাহলে দাবি করতে পারে সকল আসামির মুক্তি। তাহলে দেশের আইন আদালত, কারাগার কিছুই দরকার নেই।

১০ ডিসেম্বর নিয়ে জানতে চাইলে হানিফ বলেন, ১০ ডিসেম্বর আলাদা কোনো দিবস নয়। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে আমরা জানি। বিএনপি এই তারিখে তাদের কর্মসূচি নিয়ে যেভাবে প্রচার প্রপাগান্ডা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। ভাবখানা এমন ছিল এরপর সরকারই থাকবে না। এই গতকালকের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত দু’তিন মাস বিএনপি যে সকল কথাবার্তা বলেছে তাতে প্রমাণ হয় এরা ভাওতাবাজির দল, মিথ্যাবাদির দল। তাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ধোঁকাবাজি দিয়ে ঢাকায় জমায়েত করে শোডাউন দিতে চেয়েছে। বিএনপি জানে দেশের জনগণ তাদের সঙ্গে থাকবে না। এখনও নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না কারণ অতিতের নানা কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদকে মদদ দেওয়ার ফলে জনগণ তাদের পক্ষে আর দাঁড়াবে না। জন্য ষড়যন্ত্রের পথ খোঁজে। 

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি মাথায় এখন বিদেশিদের কাঁধে ভর করে ষড়যন্ত্রের পথ খোঁজে বের করা। তারা ভেবেছে বিদেশিদের কাঁধে ভর করেই দেশে নাশকতা কর্মকাণ্ড করেই সরকার পতন ঘটানো সম্ভব হবে। এই ভাবনাটাই বলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ক বা অদূরদর্শীপূর্ণ। তাদের যে নেতা লন্ডনে পলাতক তার রাজনৈতিক জীবন বলে কিছু নেই। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসী হঠকারিতা, হত্যা ছাড়া কিছু নেই। এমন একটা ব্যক্তিকে নেতা হিসেবে বিএনপি মানতে পারে দেশের জনগণ কখনো ভাবে না, মানে না। জনগণ জানে এরকম ব্যক্তির হাতে কখনো দেশের দায়িত্ব যায় তাহলে দেশের ধ্বংস অনিবার্য।

এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, রাজনৈতিক খেলা বলে কিছু নেই। একটা বিষয় পরিষ্কার যে তারা দেশে মানুষকেই নয়, দলের নেতা-কর্মীদেরও ধোঁকা দিয়েছে। তাদের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে, আশ্বাস দিয়ে যে ১০ তারিখের পর সরকার থাকবে না, খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগদান করবে, এসব কাল্পনিক প্রলোভন দেখিয়ে একটা বিপদের মুখে ঠেলার চেষ্টা করেছিল। গতকাল ১০ তারিখ চলে গেছে দেশবাসী দেখলো কিছুই হলো না। বিএনপির নেতা-কর্মীরা যে আশা নিয়ে এসেছিল সেখানে ছাই পড়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বুঝতে পেরেছে যে তাদের শীর্ষ নেতারা তাদের সাথে ধোঁকাবাজি করেছে। আমি মনে করি রাজনৈতিকভাবে জনগণ থেকে, তাদের নেতা-কর্মীরা বিতর্কিত হলো।

বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগপত্র জমার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপির সংসদে অবস্থান তৃতীয়। সাড়ে তিনশ সংসদ সদস্য মধ্যে সাতজন না থাকলে সংসদের কার্যক্রমে কোনো সমস্যা নেই। প্রত্যেক মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে পদত্যাগ করার। তবে তারা পদত্যাগ করে তাদের এলাকার জনগণের সঙ্গে অন্যায় করলো। ওই এলাকার জনগণ তাদের সুবিধা-অসুবিধা কথা বলতে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল। ব্যক্তিগত স্বার্থে পদত্যাগ করে তারা প্রমাণ করলো বিএনপি আসলে দেশের জনগণের জন্য নয়, নিজেদের জন্য রাজনীতি করে।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে বলেন, সাধারণত দেখা যায়, কোনো দলের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকলে অন্যরা বিরত থাকে। আমাদের গতকাল ঢাকায় কর্মসূচি ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভালোভাবে যেন সোহরাওয়ার্দীতে করতে পারে সে জন্য ছাত্রলীগের সম্মেলন আগানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অক্টোবর মাসে ঘোষণা হয়েছে, এরপর ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে ঘোষণা হয়েছে। সবাই জানে আমাদের কাউন্সিল এরপরও ওইদিন কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করলো তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নেই। তবে তাদের এই কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কোনো সমস্যা হবে না। বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো ভাবনা নেই, আওয়ামী লীগ এটিকে গুরুত্ব দিতে চায় না। নির্ধারিত তারিখে সুন্দর পরিবেশেই আমাদের কাউন্সিল হবে।

কূটনৈতিক চাপ নিয়ে হানিফ বলেন, সংসদে তারা তৃতীয় দল তবে রাজনৈতিক মাঠে আওয়ামী লীগের পরই বড় দল হিসেবে বিএনপিকে বিবেচনা করা হয়। বিএনপি সবসময় ষড়যন্ত্রের পথ খোঁজে বলেই বিদেশিদের কাছে ধর্না দেয়। তারা জানে দেশের মানুষের সমর্থন সেভাবে পাবে না। আন্দোলন করেও লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না, তাই কূটনীতিকদের কাঁধে ভর করে তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে চায়। এজন্য প্রতিদিনই ধর্না দিচ্ছে। আমাদের কূটনীতিকরাও অনেক সময় তাদের কূটনীতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়েও কথা বলছেন, যা সাধারণ মানুষ পছন্দ করেনি বলেও মন্তব্য করেন হানিফ।

ডব্লিউএইচ/এইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর