শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

সোহরাওয়ার্দী ও তুরাগ ছাড়া অন্য জায়গার প্রস্তাব পেলে ভাববে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

সোহরাওয়ার্দী ও তুরাগ ছাড়া অন্য জায়গার প্রস্তাব পেলে ভাববে বিএনপি

সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তুরাগ নদের তীর ছাড়া অন্য কোনো নিরাপদ জায়গা প্রস্তাব করা হলে বিএনপি সেটা ভেবে দেখবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


মির্জা আব্বাস বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং তুরাগ নদীর তীর ছাড়া রাজধানীর মধ্যে সন্তোষজনক আমরা যেটা নিরাপদ মনে করব সেরকম স্থান যদি তারা বলে তাহলে আমরা চিন্তা করে দেখব। যদি না পারে তাহলে আমাদের বললে আমরা স্থানের কথা জানিয়ে দেব।’

সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশ ঘিরে সরকার ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় দাবি করে তিনি বলেন, মামলা, হামলা ও গ্রেফতার করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ দমানো যাবে না।

মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে মামলা, হামলা ও গ্রেফতার করে সরকার একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা ভীত নয়। যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসের মোকাবিলা করে আমরা আমাদের সমাবেশ সফল করব ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সাম্প্রতিক নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে ককটেল ফাটানোর ঘটনা ঘটে। সরকার নিজে থেকে ঘোষণা দিয়েছিল যে সন্ত্রাস হবে সন্ত্রাস হবে। দেশবাসীকে অবগত করতে চাই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। এই সমাবেশে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম হয়তো ঘোষণা আসতে পারে।


বিজ্ঞাপন


মির্জা আব্বাস বলেন, সমাবেশ সফল করার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার তা করতে পারব না এরকম কোনো নিষেধাজ্ঞা তো সরকার দেয়নি। তারপরও আমাদের নেতৃবৃন্দ রাতে বাসায় থাকতে পারছেন না। গণসমাবেশ সফল করার জন্য প্রচারণায় হামলা করা হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাসমূলক আচরণ করছে আমাদের সঙ্গে, আর তারা বারবার বলছে বিএনপির সন্ত্রাস করে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব সেখানে আমরা সন্ত্রাস করতে যাব কেন। 

সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা কেন সন্ত্রাস করতে যাব সেটা আমাদের মাথায় আসছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে যেটাই করেছে, কিন্তু গতকাল ইঞ্জিনিয়ার ইশরাকের উপর হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম তারাই করছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমার বাসায় সকালে একটি কর্মীসভা করার কথা ছিল। যেখানে আমি কথা বলি একটি দিক নির্দেশনা দেব শান্তিপূর্ণ সমাবেশের বিষয়ে। সেটা আমাদের করতে দেওয়া হয়নি। বাড়ির চারদিকে সিভিল এবং পোশাকধারী পুলিশ ঘিরে ফেলল।

‘আমাদের সিদ্ধান্ত রয়েছে পল্টনেই সমাবেশ করব। তারপর আমরা সরকারের বিবেচনা ছেড়েছি, আশা করব তারা বিবেচনা করবেন এবং আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোন বাধার চেষ্টা করবে না।-বলেন তিনি।

আটককৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, মামলা হামলা বন্ধ করুন।

ঢাকার কোন সমাবেশে বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগ থেকে যে সমস্ত নেতাকর্মী আসবেন বলে সরকার ধারণা করছেন সেই সকল এলাকায় হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাকের বাসায় হামলা করা হয়েছে দাবি করেন মির্জা আব্বাস।

ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। সভা করা, সমাবেশ করা আমার সাংবিধানিক অধিকার এখানে উনি ছাড় দেওয়ার কে? 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, চেয়ারপারসনের বিশেষ সরকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপি'র সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শারাফাত আলী সপু ও ঢাকা দক্ষিণের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

এমই/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর