ব্যর্থতার দায় নিতে নারাজ ঢাবি ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৫ পিএম
ব্যর্থতার দায় নিতে নারাজ ঢাবি ছাত্রলীগ

সাড়ে চার বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন সভাপতি সঞ্জিব চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন সাদ্দাম হোসেন। দীর্ঘ কালক্ষেপণের পর হুড়োহুড়ি করে সম্প্রতি ঢাবির ১৮টি হলের মধ্যে ১৭টি হলের কমিটি দেওয়া হয়েছে। এখনো ঝুলে আছে একটি। এছাড়াও নানা ব্যর্থতা ও অভিযোগ এই কমিটির বিরুদ্ধে। তবে সে দায় নিতে নারাজ তারা। 

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সকল অভিযোগের যুক্তি খন্ডনের জোর চেষ্টা চালিয়েছেন সঞ্জিব-সাদ্দাম। 

দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতিকে। অনুপস্থিত ছিলেন নানা আয়োজনেও। সেটি কমিটি গঠনের অন্তরায় কিনা, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সঞ্জিব বলেন, অসুস্থ থাকার কারণে আমি অনেক সময় প্রোগ্রামে আসতে পারিনি। আমার ব্যক্তিগত জীবন থাকতে পারে। ছাত্রলীগ করি জন্য আমি রোবট হয়ে যাইনি বা মেশিন হয়ে যাইনি। আমি উপস্থিত থাকি বা অনুপস্থিত থাকি, তাতে কমিটি বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ নাই।

প্রশ্ন উত্তরের আগে লিখিত বক্তব্যে সঞ্জিব চন্দ্র দাস বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হল, ১৯টি অনুষদ ও ইন্সটিটিউটের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে প্রকৃত অর্থে হল কমিটি হয়েছে ১৭টি। এখনো ঝুলে আছে জসিমউদদীন হল কমিটি। আবার যে সকল কমিটি দেওয়া হয়েছে সেখানে ‘মাই ম্যান’ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাধান্য বেশি। এর কারণ জানতে চাইলে সঞ্জিব বলেন, হল কমিটি দেই আমরা যাচাই-বাছাই করে। জেলা দেখে না। অতীত ইতিহাস দেখেন, এবারের মতো সকল জেলার সমন্বয়ে কমিটি এর আগে হয়নি। এ ধরণের দোষারোপ নিছক রাজনৈতিক ছলনা বলে আমি মনে করি।

যে হলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেছে, তারা তাদের পছন্দের লোককে পদায়ন করতে চায় বলে দাবি করেন তিনি। 

du-Chhatra-League

এ সময় সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, হলটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। 

অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে সিট সংকট নেই ও ছাত্রলীগ সিট বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত নয় বলে দাবি করেন ঢাবি ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে বহিরাগতরা ছাত্রলীগের নামে হলে অবস্থান করে। এমন অভিযোগ মানতেও নারাজ সঞ্চিব দাস। তিনি বলেন, এমন কোনো অভিযোগ যদি থাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে ঘিরে বিএনপির অভিযোগ, পুলিশ-ছাত্রলীগ মিলে তাদের উপর হামলা করা হয়। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম ছাত্রলীগ করেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের সংহতির সম্পর্ক, ঐক্যের সম্পর্ক, ভালোবাসার সম্পর্ক।

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে সাদ্দাম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে খুনিদের দোসর রয়েছে, জঙ্গিবাদের একটি দোসর রয়েছে। যাদের ছাত্র রাজনীতির এজেন্ডা শিক্ষার্থী নয়। তাদের ছাত্র রাজনীতির এজেন্ডা দুর্নীতের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত, এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের রক্ষা করা। তারা যখন নিজেদের এজেন্ডাকে ছাত্র রাজনীতির এজেন্ডা করার চেষ্টা করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়া ছাত্র রাজনীতির দায়িত্ব। বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ সব সময় সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

কারই/এএস