‘আন্দোলন দমনে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তকেই পুলিশ প্রধান করেছে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৩ পিএম
‘আন্দোলন দমনে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তকেই পুলিশ প্রধান করেছে সরকার’

আগামীতে আন্দোলন সংগ্রাম দমন করতে সরকার আরেকজন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেই পুলিশ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। 

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। 

সরকারের উদ্দেশ্যে নুরুল হক নুর বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত একটা অধ্যায় রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তর্জাতিকভাবে কালো তালিকাভূক্ত করেছেন। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খুনি মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যেই পুলিশ প্রধান অবসরে গেছেন সরকার তাকে দুইজন দেহরক্ষী দিয়েছে।

রাজনৈতিক সভা সমাবেশে বাধা, হামলা-মামলা, দমন-পীড়ন, গুলি-হত্যা বন্ধের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজিত গণতন্ত্র মঞ্চে নুর বলেন, ‘সরকারের চরিত্র কতটা জঘন্ন, তাদের চরিত্রে কতটুকু পচন ধরেছে, তারা বিরোধী দলের সভা সমাবেশ দমন করতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের গুণ্ডাদের দিয়ে হামলা মামলা করাচ্ছে। আগামীতে আন্দোলন সংগ্রাম দমন করতে আরেকজন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেই পুলিশ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, হামলা মামলা করে পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আমাদের দাবি স্পষ্ট, এই মুহূর্তে অন্তর্বতীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।’

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই সংবিধানকে নতুন করে বিনির্মাণ করবে। এই সংবিধান এখন আর আমাদের রক্ষা করতে পারছে না। এই সংবিধান গত ৫০ বছরে ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিটি সংশোধন ছিল শাসকদের সুবিধার জন্য। কিন্তু গণতন্ত্র মঞ্চ স্পষ্ট বলছে কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ আন্দোলন করবে না। গণতন্ত্র মঞ্চ পুরো সংবিধানকে বিনির্মাণ করতে জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে আগামী বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য লড়াই সংগ্রাম শুরু করেছে। সেই লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না,  জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এইউ