সেই চা শ্রমিক মাকে ফ্রিজ-স্মার্ট টিভি দিলেন গোলাম রাব্বানী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২২, ০১:৪৬ এএম
সেই চা শ্রমিক মাকে ফ্রিজ-স্মার্ট টিভি দিলেন গোলাম রাব্বানী

মজুরি বৃদ্ধির দাবি নিয়ে মাঠে থাকা সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকদের আন্দোলনের মাঝে হঠাৎ আলোচনায় মৌলভীবাজারের চা শ্রমিক কমলি রবিদাসের জীবনযুদ্ধের গল্প। সামান্য মজুরির কাজ করেও ছেলে সন্তোষ রবিদাসকে পড়াশোনা করিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাকে নিয়ে ছেলের বুকে জমানো কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই সন্তোষদের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহ দেখান। কেউ তাকে চাকরি দেওয়ারও আশ্বাস দেন। এদেরই একজন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) তিনি নিজের গড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন টিম পজিটিভ বাংলাদেশের সদস্যদের নিয়ে ছুটে গেলেন সন্তোষদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে।

এসময় সন্তোষের মায়ের হাতে গোলাম রাব্বানী তুলে দেন যমুনা ইলেক্ট্রনিক্সের বিশাল আয়তনের ফ্রিজ ও এন্ড্রোয়েড টেলিভিশন। জীবন সংগ্রামী এই মায়ের হাতে তুলে দেন উপহার হিসেবে নেওয়া শাড়ি।

এসময় অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ের সন্তোষের মা।

গোলাম রাব্বানী পরে চা শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এর সমাধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতকোত্তর পাস করা মৌলভীবাজারের সন্তোষ রবিদাসের বাড়িতে গিয়েছিলেন কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাতউদ্দিন।

তার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। এমন খবর শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন তার মা। তার মায়ের বিশ্বাস ছেলের চাকরি হলে সুখের দেখা পাবেন তিনি।

11

এসময় তাদের বাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চালডালসহ বেশ কিছু খাবার দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে আনোয়ার গ্রুপের পক্ষ থেকেও সন্তোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) ও ইউনিট এইচআর (সিমেন্ট ডিভিশন) প্রধান মনোজ কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা সন্তোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁর জন্য একটা চাকরির সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বিষয়টি তাদের বিবেচনাধীন।’

কে এই সন্তোষ?

মৌলভীবাজারের শমসেরনগরে ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানের এক শ্রমিক পরিবারে জন্ম সন্তোষ রবিদাস অঞ্জনের। জন্মের মাস ছয়েকের মাথায় বাবাকে হারিয়েছিলেন। মা কমলি রবিদাস চা বাগানের শ্রমিক। তখন মজুরি পেতেন দৈনিক ১৮ টাকা। সেই সময় ছেলেকে অন্যের বাসায় রেখে তিনি চলে যেতেন চা বাগানে।

ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন সন্তোষ। ২০১৩ সালে ভর্তি হন ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে। সন্তোষের মায়ের মজুরি ছিল তখন ১০২ টাকা। তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছেলের ভর্তির টাকা, ইউনিফর্ম আর বই-খাতা কিনে দিয়েছিলেন।

02

২০১৪ ডিসেম্বরে ছিল সন্তোষের এইচএসসির নিবন্ধন। তাঁর মা কমলি রবি দাস তখন ৫০ টাকার একটি নোট দিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলেছিলেন, ‘দেহি, কেউ ধার দেয়নি রে, বাপ।

কলেজের এক শিক্ষকের কাছ থেকে ধার নিয়ে সেবার নিবন্ধন ফি দেওয়া হয়। এইচএসসির পর ভর্তি পরীক্ষার কোচিং। কমলি তখন আবার ঋণ নিলেন ব্যাংক থেকে। লোনের কিস্তি পরিশোধে বাসা থেকে অনেক দূরে গিয়ে বালু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এভাবে খেয়ে না খেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে পড়ার সুযোগ পান সন্তোষ। সদ্য তিনি পাস করে বের হয়েছেন।

বিইউ/জেবি