পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।’
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের গায়েবানা জানাজায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে আহত শ্রমিকনেতাদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান নাহিদ। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
নাহিদ বলেন, নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালিয়েছেন। এসময় গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে নারীসহ মোট ১৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলেও দাবি করেন তিনি।
মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ। তিনি বলেন, তিন দিন আগে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও বুধবার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের অবহেলা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দোলনটিকে শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে স্বীকার করছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিএনপি আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।
নাহিদের দাবি, শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে সরকার ও ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার অভিযোগ, হকিস্টিক ও স্টাম্প নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাস্তায় নেমে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ শ্রমিক কলোনিতে অভিযান চালিয়ে শ্রমিকদের খুঁজছে, গ্রেফতার করছে এবং মামলা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে শ্রমিক আন্দোলন দমনে যে ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো, বর্তমানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়ায় আন্দোলন জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন আন্দোলনকে জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো হতো, এখন বিএনপি বিভিন্ন আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা খুঁজছে।
তার অভিযোগ, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্নে বিএনপি আপস করেছে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা যেন সতর্ক থাকেন। শ্রমিকদের দাবির প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় নিহত শ্রমিক তৌফিকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, তার মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানান নাহিদ। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত করে চাকরিচ্যুত না করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বুধবার গাজীপুর চৌরাস্তায় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেন পোশাকশ্রমিক ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতাকর্মীরা।
এসময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে উপস্থিত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এএইচ




