বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ব্রিটিশ প্রভাবিত আইন ও সংবিধান পরিবর্তন করে জনবান্ধব করতে হবে: জেডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রিটিশ প্রভাবিত আইন ও সংবিধান পরিবর্তন করে জনবান্ধব করতে হবে: জেডিপি
জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষে জেডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আইনব্যবস্থায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান ও প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করে জনবান্ধব করার এখনই উপযুক্ত সময়। এ ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষে জেডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘৭২-এর সংবিধান পর্যালোচনা ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাঈম আহমাদ বলেন, স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন ও কার্যকর করা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার তুলনায় এটি ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য। দেশটির সংবিধান প্রণয়নে প্রায় নয় বছর সময় লেগেছিল।

তবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর বড় অংশের শিকড় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন, ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি এবং ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধিসহ ঔপনিবেশিক আমলের অনেক আইন এখনো বহাল রয়েছে।

এসব আইনের অনেকগুলোর লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার রক্ষা নয়, বরং প্রজা শাসন। স্বাধীনতার পরও এসব আইন বহাল থাকায় রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোয় ঔপনিবেশিক চিন্তার প্রভাব রয়ে গেছে। সংবিধান প্রণয়নের সময়ও বিদ্যমান আইন ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হয়েছে। ফলে ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার প্রভাব থেকে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৭২ সালের সংবিধানকে ধর্মগ্রন্থের মতো অপরিবর্তনীয় দলিল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, সময়ের পরিবর্তন, জনগণের অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রের প্রয়োজন বিবেচনায় সংবিধান পর্যালোচনা করা জরুরি।

তিনি বলেন, এই সংবিধান রাষ্ট্র ও জনগণকে স্বৈরশাসন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে রক্ষা করতে পারেনি। সংবিধান বহাল থাকা অবস্থাতেই বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধান খুন হয়েছেন এবং দেশে বারবার সামরিক শাসন এসেছে। শাপলা, পিলখানা ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের মতো রক্তক্ষয়ী ঘটনার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবির ধারাবাহিকতায় সংস্কার কমিশন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

বিএনপি সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে রাষ্ট্রের আইন ও কাঠামোকে মুক্ত করে জনবান্ধব করার সুবর্ণ সুযোগ এখন বিএনপির হাতে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার আলোকে সংবিধান সংস্কার করলে দলটি ইতিহাসে নায়কের মর্যাদা পাবে। অন্যদিকে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে এ সুযোগ কাজে না লাগালে ইতিহাসে ভিলেন হিসেবে মূল্যায়িত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান একজন ব্যক্তিকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করেছে। এর পরিণতিতে ১৯৭৫ সালের করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সংবিধান সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির প্রতারণামূলক আচরণের কারণে সেই সম্ভাবনা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

জেডিপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দলটির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, যুগ্ম সদস্যসচিব আইমান আন্দালিব, ইয়াসিন আরাফাত রাজ ও আরিফুল হক চৌধুরী।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর