শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

লংমার্চে কেন নেই এনসিপি, দূরত্বের গুঞ্জন কতটা সত্যি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

লংমার্চে কেন নেই এনসিপি, দূরত্বের গুঞ্জন কতটা সত্যি?
মূল ছবিতে ১১ দলের আজকের লংমার্চ

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চে সরব উপস্থিতি ছিল না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) নেতাকর্মীদের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন না দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ কোনো নেতা। পরে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গাড়িবহরে যোগ দিলেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল অনেকটাই সীমিত। 

আগের দুটি লংমার্চের মতো এনসিপির নেতাকর্মীদের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এটা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির দূরত্ব তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের সঙ্গে দলটির মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল ও নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অসন্তোষ যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দলের সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে। এর প্রভাব পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতেও।

S

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে খুলনার উদ্দেশে গাড়িবহর যাত্রা করে। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

তবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সেখানে ছিলেন না। তার জন্য মঞ্চে একটি চেয়ার রাখা হলেও সেটি খালি ছিল।

নাহিদের পরিবর্তে লংমার্চে অংশ নেন এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে তাদের কাউকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। পরে ঢাকার বাইরে কয়েকটি পথসভায় এনসিপির নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

S

লংমার্চে সরব উপস্থিতি না থাকার বিষয়ে এনসিপির নেতাদের কেউ মুখ খোলেননি। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে কি না সেটাও পরিষ্কার নয়। এ ব্যাপারে এনসিপির কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। 

 তবে সূত্রের দাবি, এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্বের সূত্রপাত মূলত আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে। দুই দলের একাধিক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সিটি নির্বাচনে অন্তত তিনটি করপোরেশনে ছাড় চেয়েছিল এনসিপি। 

এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটির অন্তত একটিতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে দলটি অনড় ছিল। কিন্তু জামায়াত ঢাকার কোনো সিটিতেই শরিকদের ছাড় দিতে রাজি হয়নি। পরিবর্তে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এনসিপিকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয় দলটি। এনসিপি তাতে সম্মত হয়নি।

একপর্যায়ে এ নিয়ে দুই পক্ষের বৈঠকে মতবিরোধ তৈরি হয় এবং এনসিপির নেতারা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন।

S

দুই দলের সম্পর্কে টানাপোড়েনের আরেকটি কারণ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। 

এনসিপির কয়েকজন নেতার অভিযোগ, এ বিষয়ে জামায়াত জোরালো অবস্থান নেয়নি। এ ছাড়া বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীর কাছ থেকে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর হাসিমুখে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও এনসিপির নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। 

পরদিন শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর