সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইজিপিকে ক্ষমা চাইতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইজিপিকে ক্ষমা চাইতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, আইজিপি বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে ধরে নেওয়া হবে, তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মুগদায় এক নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাঁড়িয়ে জনগণের পুলিশ হতে চায়। কিন্তু আইজিপি পুলিশকে আবার লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ারের বাহিনী ও চাঁদাবাজের বাহিনীতে পরিণত করতে চাইছেন। তাঁর এই বক্তব্যে পুরো পুলিশ বাহিনীকে অপমান করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপির কথায় তাঁদের চলার প্রয়োজন নেই। আইজিপি আসবেন-যাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। তাঁদের রক্ত ও পোশাক বিক্রি করে কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা যেন আইজিপির স্বার্থের বলি না হন এবং কোনো অবৈধ আদেশ পালন না করেন। জনগণ ঘুরে দাঁড়ালে লাঠি বা বারুদ দিয়ে তাদের ঠেকানো যায় না।

image

সমাবেশে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, আইজিপির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই। পুলিশ ও মন্ত্রীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মন্ত্রী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের অস্ত্র নিয়ে চলাফেরার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরাই মন্ত্রী হয়েছেন, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রাত ৯টার পর ঢাকা শহরে মানুষ বের হতে সাহস পায় না। বের হলে জামাকাপড় খুলে রেখে দেওয়া হয়। খুলনায় নিরাপত্তার অভাবে পুলিশও বের হতে ভয় পায় বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রীদের পরিবার নিয়ে সমালোচনা

মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া নিয়ে সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁদের ভাইয়েরা ব্যবসা শুরু করেন। স্বামীরা মন্ত্রী হলে স্ত্রীরা ডিলারশিপ পান, সন্তানরা ঠিকাদারি পান, আর শ্যালক-সমন্ধিরাও ব্যবসার সুযোগ পান।

মন্ত্রীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কতজন মন্ত্রীর সন্তান দেশে পড়াশোনা করেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। মন্ত্রীরা যদি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা না রাখেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে আস্থা রাখবে? একইভাবে মন্ত্রীরা দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সিটি নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে আহ্বান

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মুগদাবাসীকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, অতীতের ভুল সংশোধন করে আগামী নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। চাঁদাবাজি ও বিএনপির সন্ত্রাসবাদের আতঙ্ক থেকে মুক্তির প্রত্যাশা তুলে ধরে তাঁকে জনতার প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন হাসনাত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন।

বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

২০০৬ সালে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে নির্বাচনের দিকে যাওয়ার চেষ্টার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ১৭ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার দায় বিএনপির। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিহাস বিএনপির নেই। দলটি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতায় এলেও দেশকে অশান্ত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রেখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের ঘটনাও এ প্রসঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, সালাহউদ্দিনের কুবুদ্ধিতে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নীলনকশা করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর