সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার অনুমতি চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার অনুমতি চেয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা এবি পার্টির
মজিবুর রহমান মঞ্জু ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার ও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।

বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাষ্ট্রে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনো কর্মকর্তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথা এভাবে প্রকাশ্যে বলতে পারেন না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, আদালতের বাইরে কাউকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া নয়। সরকারের অনুমতি থাকলেই কোনো নাগরিককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার বৈধতা তৈরি হয় না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার অবশ্যই সংবিধান, আইন ও মানবাধিকারের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

তাঁরা বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশকে দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, শ্রমজীবী মানুষসহ নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো জাতিকে তাড়িত করে। সেই অভিজ্ঞতার পরও পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বার্তা দেওয়া হলে তা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, পুলিশ কোনো সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনী নয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বের পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়। বরং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনের প্রতি আনুগত্যই হওয়া উচিত পুলিশের মূল অঙ্গীকার। আইজিপির বক্তব্যে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে কি না।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ এবং স্বাধীন আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হত্যার ক্ষমতা দেওয়ার মানসিকতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।

নেতারা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর প্রধান ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বললে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের বক্তব্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং অতীতের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আবার সামনে নিয়ে আসবে।

বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সরকারের কাছে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরে আসবে না—এমন অঙ্গীকার চান।

জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারহীনতার কোনো স্থান থাকতে পারে না বলেও বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর