বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ধ্বংসে ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ধ্বংসে ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।

ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ১ হাজার ১০০টির বেশি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং ১০টির বেশি মসজিদ ধ্বংসের খবরে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। সংগঠনটি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং মুসলিমদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী ও সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এ উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বারবার উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে উপমহাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আসামের ঘটনাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে অভিহিত করেন।

সদস্যসচিব সানাউল্লাহ খান বলেন, ভারত সরকার এসব উচ্ছেদকে সরকারি ও বন বিভাগের জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বসবাসের ইতিহাস এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।

বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা কিংবা তাদের জানমাল অনিরাপদ করে তোলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ভারতীয় মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোদি সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স ভারত সরকারের প্রতি আসামে ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ ধ্বংসের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আসামের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো বেদনাদায়ক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মসজিদ, মানুষের বসতভিটা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি। ভারতের মুসলমানরাও দেশটির নাগরিক উল্লেখ করে সংগঠনটির নেতারা ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

টিএই/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর