সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইশরাককে কেন অস্ত্র হাতে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ইশরাককে কেন অস্ত্র হাতে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো?
মূল ছবিতে অস্ত্র হাতে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানের দৃশ্য

সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও ইশরাক হোসেনকে নিজেই কেন অস্ত্র হাতে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো, এই প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারের কাছে প্রশ্নটির জবাব চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য তার। 

হাসনাত লিখেছেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো, সরকারের কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া জরুরি। এর পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, তারা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করত, তাহলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন সরাসরি এভাবে মাঠে নামতে হবে?’

তার প্রশ্ন, ‘এই পরিস্থিতির দায় কি শুধু ইশরাক হোসেনের, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতারও দায় রয়েছে?’ তিনি মনে করেন, ‘যদি মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়।’

এনসিপি নেতা লিখেছেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে? রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হবে?’ 

H
হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

তিনি লিখেছেন, ‘একই ধরনের প্রশ্ন দেখা যায়, যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি এসব বিষয় পরিদর্শনে যেতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এটি কেবল একটি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তারও প্রশ্ন।’

হাসনাত বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তদারকি করতে হয়, প্রতিমন্ত্রীকে নিজে রাস্তায় নেমে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।’

তরুণ এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি এভাবেই পরিচালিত হতে থাকে এবং একসময় জনগণই যদি পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে, তখন সরকার কী করবে? তখন কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে?’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না। রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে, ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, একজনকে সরিয়ে দিয়ে সমস্যার মূল জায়গাটি আড়াল করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না।’

হাসনাত আরও লিখেছেন, ‘দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল।

এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমসহ নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিব্রত হয় সরকার এবং বিএনপি। অসন্তুষ্ট হন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারই জেরে রোববার (১৮ অক্টোবর) ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।

সেই মতো সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। তবে ঢাকা-৬ আসনের এমপি হিসেবে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে তার কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।

এএইচ  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর