রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুতে নিন্দা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুতে নিন্দা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি 

ঢাকার আশুলিয়ায় আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে কর্মরত নারী পোশাকশ্রমিক মিশু আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মো. খলিলুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, কর্মস্থলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারী শ্রমিকের সঙ্গে এক কর্মকর্তার দুর্ব্যবহার ও মেশিনে আঘাত করার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ঘটনা কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

তারা বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পোৎপাদনের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা ও ছুটির সুযোগ এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন। কোনো শ্রমিকের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ কিংবা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিবৃতিতে মিশু আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কারও অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা নির্যাতনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার, প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও আইনানুগ সব পাওনা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান নেতারা।

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃদ্বয় তৈরি পোশাক কারখানাসহ দেশের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, অসুস্থতায় চিকিৎসা ও ছুটির সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করতে মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, শ্রমিকের জীবন ও মর্যাদার চেয়ে উৎপাদন কিংবা মুনাফা বড় হতে পারে না। শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে মানবিক পরিবেশ বজায় রাখা মালিকপক্ষের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমআর/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর