রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সংবিধান পুনর্লিখনের আন্দোলন: মামুনুল হক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সংবিধান পুনর্লিখনের আন্দোলন: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক

জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করা হলে সংবিধান পুনর্লিখনের আন্দোলনে অগ্রসর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। 

তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের নামে সনদের মূল উদ্দেশ্য পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এবি পার্টির উদ্যোগে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দল-মত, শ্রেণি ও পেশার বিভেদ অতিক্রম করে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারি ব্যবস্থার অবসান এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, জুলাই সনদ তার রাজনৈতিক প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ‘রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সেই আকাঙ্ক্ষাকে আরও ব্যাপক ভিত্তি দিয়েছে। জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে উত্থাপিত রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন করাই এখন সময়ের প্রত্যাশা।

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সনদে স্বাক্ষরের সময় সংযুক্ত ব্যাখ্যা ও ফুটনোটের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারের ওপর নির্ভরশীল করায় সনদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের শর্ত রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে জনগণের অভিপ্রায়কে দুর্বল করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়েছে। 

সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় কর্তৃত্ববাদী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঝুঁকি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সরকারপ্রধান যাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠতে না পারেন, সে জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি। জুলাই সনদের অন্যতম উদ্দেশ্য এই কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা।

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে রাজনৈতিক স্বার্থে বিভক্ত করা উচিত নয়। বিশেষ করে ইসলামপন্থীদের লক্ষ্য করে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা জুলাইয়ের ঐক্য ও আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবসহ বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আলেম সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।

মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদের কার্যকর বাস্তবায়ন, সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করা হলে সংবিধান পুনর্লিখনের আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হবেন তারা।

টিএই/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর