৭০০–৮০০ রিকশার মালিক বলে কারও বিরুদ্ধে বয়ান তৈরি করা ‘বিকৃত রুচি, আদর্শহীনতা ও বিবেকবর্জিত’ কর্মকাণ্ড বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমার নামে ৭০০–৮০০টি রিকশা থাকার প্রচারণা চালানো হলেও সারাদেশের কোনো জায়গায় আমার নামে একটিও রিকশা থাকার প্রমাণ দিতে পারলেই তা যথেষ্ট হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে ভুয়া ফটোকার্ড ও একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রুপের মাধ্যমে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক আদর্শ, চরিত্র ও নৈতিকতা দিয়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ এ ধরনের প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথমে এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা নিয়ে কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশনের রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রশাসকও একই তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলায় আমাকে এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু টকশো আলোচকও এসব অসত্য তথ্য নিয়ে আলোচনা ও গল্প তৈরি করছেন। তার ভাষ্য, সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রত্যাশা কিংবা বিভিন্ন পদ-পদবি ও পদোন্নতির আশায় কেউ কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, যা মানুষের কাছে অরুচিকর ও হাস্যকর মনে হচ্ছে।
পোস্টে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘৭০০–৮০০টি রিকশা লাগবে না, সারা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায়, যেকোনো শহরে আমার নামে একটি রিকশা আছে, এমন প্রমাণও যদি কেউ দিতে পারেন, তা-ই যথেষ্ট।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগ থাকা সত্ত্বেও তার নামে একটি রিকশারও সন্ধান দেওয়া সম্ভব হয়নি কেন। তার দাবি, এত দিন ধরে এ বিষয়ে প্রচারণা চললেও তা প্রমাণ করার মতো তথ্য সামনে আনা হয়নি।
এ ধরনের অপপ্রচার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সুস্থ রাজনীতির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা রাজনীতি দিয়ে, আদর্শের মোকাবিলা আদর্শ দিয়ে এবং নৈতিকতার মোকাবিলা নৈতিকতা দিয়ে করা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে শুধু তার বিরুদ্ধেই নয়, বিভিন্ন সম্মানিত রাজনৈতিক নেতার নামেও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পাদকীয় নীতি ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের প্রচারণায় কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি হলুদ সাংবাদিকতা ও অসত্য প্রচারের বিরুদ্ধে সত্যনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
টিএই/এফএ




