সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

প্রকৃত শিক্ষা না পেলে শিক্ষিতরাই চোর-ডাকাত হয়: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রকৃত শিক্ষা না পেলে শিক্ষিতরাই চোর-ডাকাত হয়: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, প্রকৃত শিক্ষা না হলে শিক্ষিতরাই চোর-ডাকাত হয়ে যায়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচারে জড়িত।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, যারা জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার ও দুর্নীতি-অনিয়ম করছে, তারা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করেনি; বরং সার্টিফিকেট অর্জন করেছে। সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে রাসুল (সা.)-এর ইসলামী শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে। প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আলোকিত মানুষ তৈরি সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শুধু দিবস পালন ও আলোচনা করলেই মানুষের কল্যাণ হয় না। এসব আলোচনা পত্রিকার পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশ, জাতি ও জনগণ উপকৃত হয় না। আগামী বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবস যেন শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়, সে লক্ষ্যে শিক্ষক সমাজের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি বলেন, একজন চিকিৎসক একজন রোগীকে সুস্থ করেন, একজন প্রকৌশলী অবকাঠামো নির্মাণ করেন; কিন্তু একজন শিক্ষক পুরো একটি জাতিকে গড়ে তোলেন। অথচ শিক্ষক সমাজ বরাবরই অবহেলিত ও বঞ্চিত।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে না পারার বক্তব্য আর কতদিন চলবে। আগামী বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে যেন শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পেরেছি—এ কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম বলেন, শিক্ষকতা সবচেয়ে সম্মানিত পেশাগুলোর একটি হলেও দেশে গুটিকয়েক শিক্ষক ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষক আর্থিক সংকটে রয়েছেন। শিক্ষকরা জাতির বিবেক হলেও স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলন করলেও তাদের দাবি পূরণ করা হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরও শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলামের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল মান্নান, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি ড. মাওলানা আব্দুস সবুর মাতব্বর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর নবী মানিক শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর হলে অবসরের বয়স ৬৫ বছর করা, শতভাগ বাড়িভাড়া-উৎসবভাতা-চিকিৎসাভাতা প্রদান, অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ দ্রুত পরিশোধ এবং এ খাতে বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া যোগ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আনুপাতিক হারে শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরে নিয়োগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির সুযোগ, রাজনৈতিক মামলায় সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ, নবম জাতীয় পে-স্কেল একই সময়ে বাস্তবায়ন এবং সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানানো হয়।

টিএই/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর