গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে যে চারটি আসনে ছাড় দেয় এর মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনও। তবে এই আসনে বিএনপির সাবেক নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কাছে পরাজিত হন জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। নির্বাচনের প্রায় আট মাস পর তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফিকির’ অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিএনপি প্রত্যাশিত আন্তরিকতা দেখায়নি। বরং দলটির একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে ও আড়ালে কাজ করেছে।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের যে রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল, নির্বাচনের মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তার ভাষ্য, বিএনপি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তরিকভাবে জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে এ আসনে বিজয় সম্ভব ছিল। কিন্তু নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিএনপির একটি অংশ প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালন করেনি।
সরাইল-আশুগঞ্জ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে এ এলাকায় ইসলামপন্থীদের একটা প্রভাব রয়েছে। ফলে বিএনপি-জমিয়তের সমঝোতার ক্ষেত্রে আসনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জুনায়েদ আল হাবীবের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ জমিয়তের প্রার্থীর পরিবর্তে রুমিন ফারহানার পক্ষে সক্রিয় ছিল। অন্য একটি অংশ ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখায়নি।
নির্বাচনি মাঠের নানা অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন জমিয়তের এই সহসভাপতি। তার দাবি, আওয়ামী লীগপন্থি প্রায় ৩০ শতাংশ নেতা-কর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করেন রুমিন ফারহানা। এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেন তিনি।
ভোটের দিনও জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন জুনায়েদ আল হাবীব। তার অভিযোগ, যেসব কেন্দ্রে জমিয়তের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল, সেসব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। এতে ভোটের মাঠে তার প্রার্থিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে কাজ করেছে। বিভিন্ন আসনে আলেম-উলামাদের সমর্থনের কারণে বিএনপির প্রার্থীরা উপকৃত ও বিজয়ী হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার প্রশ্ন, যেখানে জমিয়তসহ ইসলামপন্থি দলগুলো জোটের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তের প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন একই ধরনের ভূমিকা রাখলেন না।
শুধু বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক নয়, ইসলামি দলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন জমিয়তের এই নেতা। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি বর্তমানে কাজ করছে। বৃহত্তর ইসলামি রাজনৈতিক ঐক্যের সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে আলোচনা চলছে।
জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, বৃহত্তর ইসলামি প্ল্যাটফর্ম যদি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির সঙ্গে থাকা জোট থেকেও বেরিয়ে আসতে প্রস্তুত রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।
জেবি




