সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির অভিযোগ, ভেরিফিকেশনের নামে ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেক প্রার্থীকে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টি গুরুতর। ভেরিফিকেশনের নামে তাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কোন আইন, মানদণ্ড ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা দরকার। অনেক প্রার্থীর অভিযোগ, রাজনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয় কিংবা মতাদর্শ বিবেচনায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার সবার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য বা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত নয়।
জামায়াতের এই নেতা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে দ্রুত প্রতিকার এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। অন্যায়ভাবে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
টিএই/এএম




