বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নিপীড়ন-নির্যাতনেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

নিপীড়ন-নির্যাতনেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী

নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করেও রুহুল আমিন গাজী মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, রুহুল আমিন গাজী এমন একজন মানুষ ছিলেন, যাকে ফ্যাসিবাদের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেওয়ানো সম্ভব হয়নি। নানা ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেও তিনি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন। বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের একটি অংশ যখন ক্ষমতাসীনদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তখন রুহুল আমিন গাজীর মতো মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যখন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অবরুদ্ধ ছিল, তখন জাতীয় প্রেস ক্লাব অন্যতম গণতান্ত্রিক পরিসর হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। প্রেস ক্লাবের ভেতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের আক্রমণ থেকে প্রেস ক্লাবও মুক্ত ছিল না। শেষ পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রেস ক্লাবের ভেতরে পুলিশ ঢুকে একজন সাংবাদিক নেতাকে গ্রেফতার করার ঘটনা ছিল বিরল। এর মধ্য দিয়ে সেই সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের আক্রমণের মুখে এক ইঞ্চি বা দুই ইঞ্চি গণতান্ত্রিক পরিসরও রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাটসহ সব জায়গা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রোড মার্চ ও লং মার্চে হামলা ও বাধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। অথচ গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কথা বলার ও কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকা অত্যাবশ্যক।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবসময় বলেছি বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন করার অধিকার আছে। তারা কথা বলবে, সরকারের সমালোচনা করবে, সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে। গণতন্ত্রে এটাই স্বাভাবিক বিষয়। গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তাই বলা নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্যে বাগাড়ম্বর থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য উপযোগী নয়।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাছিরসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে রুহুল আমিন গাজীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর