প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিবগাতুল্লাহ। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও সংস্কারের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকার নতুন আইন করে মানুষের কণ্ঠরোধের পরিকল্পনা করছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
শিবগাতুল্লাহ বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করে সরকার এমন আইন করতে যাচ্ছে, যা বিরোধী মত দমনে ব্যবহৃত হতে পারে। তার দাবি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে জনমত দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে।
শিবির সেক্রেটারি বলেন, অতীতে আইন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
র্যাব প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্ন আইন প্রণয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসবের অপব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
শিবির সভাপতির ভাষ্য, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং পরবর্তী সময়ে তার সংশোধন নিয়েও নানা বিতর্ক ছিল।
২০২৩ সালের আইন আওয়ামী লীগ সরকারকে রক্ষা করতে পারেনি উল্লেখ করে শিবগাতুল্লাহ বলেন, নতুন আইন করেও তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব হবে না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ প্রজন্ম’ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করবে না।
সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের আরও সোচ্চার হওয়া প্রত্যাশিত। সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হলে অনেক সময় তাদের পক্ষে কথা বলার কেউ থাকে না। তাই সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও প্রতিবাদে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিবগাতুল্লাহ আরও বলেন, এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। এ উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনমত ও প্রতিবাদের গুরুত্ব সরকারকে বুঝতে হবে। এ বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শিবগাতুল্লাহ বলেন, সরকারকে আইনটি থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় জনগণের প্রতিবাদের মুখে সরকারকেই পিছু হটতে হবে। আইনটির বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল হক জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদসহ অন্যরা।
এএইচ/এমআর




