আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের তুলনায় রংপুরমুখী কর্মসূচিতে আরও বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া যাবে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া গাড়িবহরে পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে বলে জোটের নেতারা জানিয়েছেন।
লংমার্চে সরকারকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা। একই সঙ্গে নিজেদের নেতা-কর্মীদের উসকানির মুখে ধৈর্য ও সংযম দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১১–দলীয় ঐক্যের সূত্র বলছে, রংপুর অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচিতে তারা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২টি আসনে জয় পায়। অর্থাৎ জোটগতভাবে ১৯টি আসনে জয়ী হয় তারা। বিএনপি জয় পায় ১৩টি আসনে। আর একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন।
জোটের নেতারা মনে করেন, এই ফলাফল রংপুর অঞ্চলে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থানের শক্তি বোঝায়। সেই শক্তির ওপর ভিত্তি করেই লংমার্চে বড় জমায়েতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। দাবিগুলো ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির বিষয়গুলোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের একটি আঞ্চলিক ইস্যুকেও সামনে এনেছে জোট। জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবিকে বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।
/এএস




