দেশে চলমান চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও অসততার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে শিক্ষার্থীদেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের শিক্ষার্থীরাই পারবে, পারতে হবে। জাতিকে হারানো যাবে না, জাতিকে জিততে হবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি হতে হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সমাজে যে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও অসততার প্রতিযোগিতা চলছে— আমরা চাই এটির কবর রচনা হোক। শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও চরিত্রের বিকাশের মাধ্যমে সৎ, দক্ষ ও বুদ্ধিমান নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানাই।
জামায়াত আমির বলেন, অতীতে যারা সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতার কারণে জাতি যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি। বরং সমাজে বঞ্চনা, হাহাকার, বিশৃঙ্খলা, বৈষম্য ও অবিচার তৈরি হয়েছে। মানুষের সম্মান, সম্পদ ও জীবনের ওপর আঘাতও অহরহ ঘটেছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যদি এখন থেকে মেধা ও মনন, দক্ষতা ও নৈতিকতার সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে পার, যদি মানুষ ও আল্লাহকে ভালোবাসতে পার, তাহলে তোমাদের দ্বারা আগামীর সুন্দর সমাজ আমরা প্রত্যাশা করি। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে রাষ্ট্র এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে স্কুলে মানসম্মত লেখাপড়া না হওয়ায় অনেক পরিবারকে সন্তানের পড়াশোনার জন্য বাড়তি শিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু সব পরিবারের পক্ষে আলাদা শিক্ষক রাখা সম্ভব নয়। ফলে স্কুলে পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষা না পাওয়ায় মেধা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই শিক্ষকরা হবেন আমাদের শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতার বিকল্প। শিক্ষার্থীদের মানুষ করার জন্য তারা হবেন কারিগর।
শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আজ যেসব শিক্ষার্থীর হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হচ্ছে, তারা একদিন বড় হবে এবং নিজেদের মেধা দিয়ে জাতিকে নেতৃত্ব দেবে। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তারা দায়িত্ব পালন করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও চরিত্রের দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে গড়ে উঠতে হবে।
তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা চাই সৎ, দক্ষ ও বুদ্ধিমান নাগরিকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশের দায়িত্ব যাক।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টিএই/এফএ




