বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে ওআইসিসহ ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা। তারা বলেছেন, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা বিবৃতি নয়, নির্যাতন বন্ধে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে কূটনৈতিক, মানবিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নিতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানায় শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন ও উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেভ দ্য পিপলসের কনভেনার মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে এবং মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলমান নির্যাতিত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো মুসলিম উম্মাহর নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। নির্যাতিত মুসলমানদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে ওআইসিসহ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
ভারতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা বলেন, দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের মসজিদ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ উদ্বেগজনক। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদার করতে মক্কা চুক্তির চেতনা বাস্তবায়ন জরুরি। এ চেতনা কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলমান নির্যাতিত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাই মতপার্থক্য দূরে রেখে অভিন্ন স্বার্থে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকেও সোচ্চার হতে হবে।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, দিলু রোড মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি সালাহ উদ্দিন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, আব্দুল আহাদ নুর, অ্যাডভোকেট মঈনুদ্দীন, মাওলানা জয়নুল আবেদীন ও মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান প্রমুখ।
এমআর/এএস




