শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আপনারা বেহায়াপনা করবেন, বিরোধী দল কি আঙুল চুষবে: সরকারকে ডা. শফিক

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

আপনারা বেহায়াপনা করবেন, বিরোধী দল কি আঙুল চুষবে: ডা. শফিক
১১ দলের লংমার্চে ফেনীর পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

সরকারের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রশ্ন, ‘আপনারা দেশের ধ্বংস সাধন করবেন, সর্বপর্যায়ে আপনারা বেপরোয়া-নির্লজ্জ-বেহায়াপনা করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে?’

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে, যেখানেই জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে, সেখানেই গর্জন করা, সেখানেই বাধা দেওয়া, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আপনারা জনগণের অধিকার নিয়ে টান দিলে বিরোধী দল কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করবে।’

জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, ‘আমরা দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামি নাই। দেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।’

J2

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পথসভায় আগতদের প্রশ্ন করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা বিদ্যুৎ চান? গ্যাস চান? দ্রব্যমূল্য সহনশীল চান? ওসমান হাদির বিচার চান? শাপলা গণহত্যার বিচার চান? পিলখানা ট্রাজেডির বিচার চান? সাড়ে ১৫ বছর যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তার বিচার চান? জুলাই গণহত্যার বিচার চান?’

এসময় উপস্থিত সবাই হাত নেড়ে ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর দেন। 

এরপর শফিকুর রহমান বলেন, ‘৬ মাস গিয়েছে, একটি বিচারেরও কোনো অগ্রগতি নেই। অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে যেটুকু হয়েছিল, ওইটুকুই। এখন লেঙড়া-লুলা হয়ে বসে আছেন। জনগণ জানে না তাদের প্রাণের দাবি বিচারগুলোর কী হলো।’

J3

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দুটি ভোট দিয়েছি। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট; অন্যটি বাংলাদেশকে সংস্কার এবং মেরামত করার গণভোট। সরকারি দল এবং আমরা উভয়ে বলেছি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে আমরা তা মেনে নেব এবং তা বাস্তবায়ন করব। সরকার এখন গণভোটের রায় না মেনে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। জনগণের এ দাবি মেনে নেওয়া জনগণের প্রতি কোন অনুগ্রহ নয়, এটি ওয়াদার বাস্তবায়ন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের বাইরে আমাদের কোনো পিসির বাড়ি নেই। আমাদের কোনো দাদাবাবুর বাড়ি নেই। আমাদের এ বাংলাদেশ গর্বের বাংলাদেশ। এটি আমাদের গর্বের ঠিকানা। আমাদের উপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে। আমরা কোনো দাদার বাড়ি-পিসির বাড়ি খুঁজি নাই। দেশ ছাড়ি নাই। মাটি কামড় দিয়ে দেশেই ছিলাম। জনগণের সঙ্গে সুখে-দুঃখে ছিলাম। আপনারা জানেন, কারা আকাশে একটু মেঘ দেখলেই পালিয়ে যায়। আকাশে বজ্রপাত হলেও আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখে আপনাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।’

এসময় তিনি সমাবেশে আগত যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের জীবনে যা পাওয়ার পেয়ে গেছি। এখন আমাদের তামাম প্রচেষ্টা তোমাদের জন্য। তোমাদের ভবিষ্যত গড়ার জন্য কাজ করতে করতে আল্লাহর কাছে চলে যেতে চাই। তোমাদের হয়ে মরব। এমন একটি বাংলাদেশ তোমাদের হাতের উপর তুলে দেব, যেখানে কোনো মানুষ আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না।’  

J4

ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা পথসভায় অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। এতে সরকারের বুঝে নেওয়া উচিৎ মানুষ কী চায়। গণঅভ্যূত্থানকালে আমরা আশা করেছিলাম, দেশে দুর্নীতি থাকবে না, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস থাকবে না। প্রত্যেকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করে নাই। বরং আমরা দেখছি, এ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দেশ উল্টোপথে যাত্রা শুরু করেছে বলেই আমরা আজ লংমার্চ করতে বাধ্য হচ্ছি।’ 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ বলেন, ‘রাজপথে বিরোধী দলকে দমন-নিপীড়ন করা হচ্ছে। আমাদের আঘাত দিলে পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন। বিরোধী দলের সহযোগিতা চাইলে ছয় দফার প্রতিটি দফা মেনে নিন।’  

5 

এছাড়া পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও জামায়াতের ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন।  

আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ, যুগ্ম সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন, লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল হক চৌধুরী, নেজামে ইসলামীর মহাসচিব মুসা বিন আজহার, খেলাফতে মজলিশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্যাহ আমিন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিজামুল বশির, জামায়াত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুইয়া, নোয়াখালী জামায়াতের আমির খন্দকার ইসা, লক্ষীপুর জামায়াতের আমির রহুল আমিন ভুঁইয়া, খেলাফতে মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জেল হোসেন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক মুসা, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত,  সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক, এবিপার্টির সদস্যসচিব ফজলুল হক, জাগপার ফেনী জেলা সভাপতি সাইফুদ্দিন, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান, শহর সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

ফেনীতে পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

প্রতিনিধি/এএইচ   

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর