বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কওমিকে আলাদা মনে করি না, সংসদে তাদের পক্ষে কথা বলব: জামায়াত আমির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ এএম

শেয়ার করুন:

কওমিকে আলাদা মনে করি না, সংসদে তাদের পক্ষে কথা বলব: জামায়াত আমির

সংসদে কওমি আলেমদের অধিকার ও স্বার্থের পক্ষে কথা বলা নিজেদের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা মনে করি না। তাদের অধিকারের পক্ষে আমরা আমাদের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে সংসদে কথা বলে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানীর বক্তব্যের সূত্র ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা মনে করি না। তাদের অধিকারের পক্ষে আমরা আমাদের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে সংসদে কথা বলে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করা হবে না। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার ও বৈষম্য দূর করা হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদেরকে কেউ অপমান করলেও আমরা কাউকে অপমান করে কথা বলি না, বলবো না।’

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়েও অবুঝ মানুষ নানা কথা বলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন, দুনিয়ার কেউ তাকে অসম্মানিত করতে পারে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তলোয়ারের দাগ একসময় মুছে গেলেও মুখের ভাষার আঘাতের ক্ষত মুছে যায় না। এই দাগ থেকে যায়।’ যারা তাকে কষ্ট দেন, তাদের প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ক্ষমা করে দেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে ক্ষমা করি ক্ষমা পাওয়ার আশায়।’

অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তাদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন জামায়াত আমির।

যোগদানকারীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ সকলকে দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে শামিল রেখে এদেশের মানুষের খেদমত করার তাওফিক দান করুক এবং জান্নাতে আমাদেরকে একত্রে মিলিত করুক।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশে কোরআনের বিধান কায়েম হবে। তবে প্রশ্ন হলো—সেই কাজে তিনি বা অন্যরা থাকবেন কি না। দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীন যুবকদের ঘাড়ে ভর করে কায়েম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশেও যুব সমাজের নেতৃত্বে একদিন আল্লাহর দ্বীন কায়েম হবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে যোগদানকারী সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. এ এস এম খালেকুজ্জামান, বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী ও ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান।

সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোট সরকারে জামায়াতের দুই নেতা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের বিরুদ্ধে দুই টাকার দুর্নীতির অভিযোগও আনতে পারেনি। এ কারণে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব রয়েছে বলে মনে করেছেন।

ইয়াকুব সরকার বলেন, ৩৬ বছর বিএনপি করেও ‘মানুষ হতে পারেননি’। কারাগারে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পাশে থেকে কোরআন শিখেছেন এবং সঠিক পথের দিশা পেয়েছেন। কোরানের আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলেও জানান।

মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী বলেন, কওমি মাদরাসায় পড়ার সময় জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তাদের মধ্যে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছিল। পরে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে পড়াশোনা করে তিনি দলটিকে সঠিক আদর্শের রাজনীতি করছে বলে মনে করেছেন এবং যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সমাবেশটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর মাধ্যমে দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি লাভের লক্ষ্যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর