বিএনপির দীর্ঘ ৪৭ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রায় দলটির অন্যতম ৪৮টি অর্জনের তালিকা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি অর্জনগুলো তুলে ধরেন।
পোস্টে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের জনগণ, দলটির সমর্থক ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান ড. মাহদী আমিন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন গণতান্ত্রিক আদর্শ ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি গতিশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী শক্তিতে রূপ নিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে ড. মাহদী আমিনের তুলে ধরা ৪৮টি অর্জনের মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবর্তন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, স্বাধীন ও মর্যাদাসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা।
এ ছাড়া ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্ব, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতি প্রবর্তন ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের অংশগ্রহণ, দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচি, রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির সূচনাকেও অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তালিকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শিশুপার্ক ও নতুনকুঁড়ি প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক প্রবর্তন, স্বনির্ভর গ্রাম সরকার, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল গঠনের কথাও রয়েছে।
এ ছাড়া গণশিক্ষা কার্যক্রম, মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, সংবিধানে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্তর্ভুক্তি, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু, এসিড অপরাধ দমন আইন ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠনকে অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা, নারী শিক্ষার প্রসার, শ্রম আইন প্রণয়ন, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সূচনার কথাও উল্লেখ করেন ড. মাহদী আমিন।
তার তালিকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, টু-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার বন্ধ করে সিএনজি চালু, দেশের প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণ, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ও রয়েছে।
এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বেসরকারি খাতে মোবাইল যোগাযোগ উন্মুক্তকরণ ও বিটিআরসি গঠন এবং কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠাকেও অর্জনের তালিকায় রেখেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক উদ্যোগ হিসেবে তারেক রহমানের ৩১ দফা, কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তায় কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ড, নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, পুরোহিতসহ ধর্মীয় উপাসকদের মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়ও উল্লেখ করেছেন ড. মাহদী আমিন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তির বাংলাদেশ গড়ে উঠছে।
বিএনপির গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্যাগ এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে দলটির অভিযাত্রার গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
টিএই/এএম




